দেশের অভিনয় অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র ফেরদৌসী মজুমদার। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের দ্যুতি ছড়িয়ে আসছেন। তার সমৃদ্ধ জীবনপরবর্তী একাধিক প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। নন্দিত এই অভিনেত্রী এবার সরাসরি দর্শকদের মুখোমুখি হবেন, শোনাবেন তার জীবন ও অভিনয়ের গল্প। এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে অনুস্বর নাট্যদল। গুণী শিল্পীদের নিয়ে তাদের আয়োজিত চতুর্থ পর্ব এটি। এবারের আয়োজনের মূল বিষয় ‘জীবন ও অভিনয়’।
‘ফিরে দেখা : অনুস্বর সংলাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি হবে আজ বিকাল ৫টায়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটারে বসবে আসরটি।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে নিজের পথচলা ও নাট্যাঙ্গনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলবেন ফেরদৌসী মজুমদার। উপস্থিত দর্শক ও নাট্যপ্রেমীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন।
ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, অভিনয় আমার কাছে শুধু একটি পেশা নয়, এটি আমার জীবনযাপন। মঞ্চ আমাকে মানুষকে জানতে, সমাজকে বুঝতে এবং নিজেকে বারবার আবিষ্কার করতে শিখিয়েছে। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ সবসময়ই আমাকে আনন্দ দেয়।
তিনি আরও বলেন, নাটক মানুষের মানবিকবোধ জাগ্রত করে। প্রযুক্তির এই সময়ে মঞ্চনাটকের আবেদন কমে যায়নি বরং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণই এর ভবিষ্যৎ আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘অনুস্বর’। ২০২২ সালে তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী থেকেই এই সংলাপের আয়োজন করে আসছে দলটি। প্রথমবার এই আয়োজনে উপস্থিত হয়েছিলেন কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ জামিল আহমেদ। দর্শকদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের নাটকের গতিপথ নির্দেশনায় এ আয়োজন ঋদ্ধ করেছিল এ প্রজন্মের নাট্যশিল্পীসহ সাধারণ দর্শকদের।
অভিজাত পরিবারে বেড়ে ওঠেন ফেরদৌসী মজুমদার। লেখক, শিক্ষাবিদ ও নাট্যজন মুনীর চৌধুরী ও কবীর চৌধুরীর বোন তিনি। তার স্বামী অভিনেতা ও নির্দেশক রামেন্দু মজুমদার। আবার তার কন্যা ত্রপা মজুমদারও অভিনেত্রী ও নির্দেশক।
মঞ্চ, ছোটপর্দা ও চলচ্চিত্রে সমানভাবে আলো ছড়িয়েছেন ফেরদৌসী মজুমদার। নাটকে অবদানের স্বীকৃতিতে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও