বাংলাদেশের গণমাধ্যম, সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে নীরবে-নিভৃতে কাজ করে চলেছেন সেলিম দৌলা খান। তিনি একাধারে শিল্পী, গীতিকার, সুরকার, আবৃত্তিকার, উপস্থাপক, অনুষ্ঠান নির্মাতা ও গণমাধ্যমকর্মী। বহুমাত্রিক প্রতিভার সমন্বয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এক অনন্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে। সংগীতচর্চা থেকে শুরু করে টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে তার সৃজনশীলতার স্বাক্ষর।
সেলিম দৌলা খানের জন্ম রাজশাহীতে। তার বাবা মো. সুজাউদ্দৌলা খান এবং মা খায়রুন নেসা। বাবার চাকরির সুবাধে শৈশব ও কৈশোর কেটেছে নারায়ণগঞ্জে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালে তার সাংস্কৃতিক জীবনের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়ে উঠলেও শিল্পচর্চার অনুপ্রেরণা পান পরিবার থেকে। তার বাবা নিজেও ছিলেন একজন সুগায়ক, লেখক এবং বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার। সেলিম দৌলার শিল্পীজীবনের প্রেরণার প্রধান উৎস তার বাবা।
সংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান কাকলী ললিতকলা একাডেমিতে। সেখানে তিনি ওস্তাদ মেরাজউদ্দিন ও মো. সাদেকের কাছে তালিম নেন। পরবর্তী সময়ে প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী ওস্তাদ রবিউল হোসেনের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এ ছাড়া দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অ্যান্ড্রু কিশোরের গুরু ওস্তাদ আবদুল আজিজের সান্নিধ্যেও সংগীতচর্চার সুযোগ লাভ করেন।
সংগীতের পাশাপাশি রাজশাহী বেতারে তিনি নিয়মিত শিল্পী হিসেবে গান, আবৃত্তি, উপস্থাপনা এবং নাটকে অভিনয় করেছেন। একই সময়ে গান ও আবৃত্তির পাশাপাশি লেখালেখিতেও নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।
১৯৯৫ সালে তার লেখা ও সুর করা ১২টি গান নিয়ে প্রকাশিত হয় আধুনিক গানের একটি ক্যাসেট, যা প্রকাশ করে অডিও প্রতিষ্ঠান ‘সঙ্গীতা’। পরবর্তী সময়ে কর্মজীবনের প্রয়োজনে তিনি ঢাকায় আসেন এবং এটিএন বাংলায় যোগ দেন। বর্তমানে তিনি চ্যানেলটির অনুষ্ঠান বিভাগের অ্যাডিশনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিভিন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণ, গ্রন্থনা, ভয়েস ওভার, প্রমোশনাল ভয়েস, ডকুমেন্টারি এবং বিজ্ঞাপনের ব্যাকগ্রাউন্ড ভয়েস প্রদানের মাধ্যমে নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য তৈরি করেছেন।
তার পরিচালনায় নির্মিত উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- চার দেয়ালের কাব্য, মহানায়িকা সুচিত্রা সেনকে নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান, প্লেব্যাক সম্রাট অ্যান্ড্রু কিশোরকে নিয়ে প্রামাণ্য আয়োজন, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী খান আতাউর রহমানকে নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান ইত্যাদি।
তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নিয়মিত আধুনিক গান পরিবেশন করেন এবং কবিতা আবৃত্তি করেন।
বর্তমানে তার পরিচালনায় এটিএন বাংলায় প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে প্রচারিত জনপ্রিয় লাইভ সংগীতানুষ্ঠান ‘মিউজিক লাউঞ্জ’ দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও