টিভি কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অতি চেনা মুখ আরশ খান। এই সময়ে অভিনয়ে দারুণ সম্ভাবনা জাগানো এক অভিনেতা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তার চাহিদা। বিভিন্ন গল্পে ও চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরছেন নিখুঁতভাবে। বর্তমান ব্যস্ততা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সময়ের আলোর সঙ্গে। লিখেছেন মাসুদুর রহমান
এক দশকের বেশি থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আরশ খান কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন টেলিভিশন নাটকে। পর্দায় তার উপস্থিতি যেমন দর্শককে রোমাঞ্চিত করে, আবার কখনো গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত করে। আবেগ, আনন্দ, দুঃখ এবং জীবনের বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলেন সাবলীলভাবে। সম্প্রতি ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে আরশ খান অভিনীত নাটক ‘বাজি’।
এটি প্রচারে আসার ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই ১ মিলিয়ন ভিউ অতিক্রম করে। আসাদ জামানের গল্প ও চিত্রনাট্যে নাটকটি পরিচালনা করেছেন রাইসুল তমাল। এতে আরশ খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ফারিহা রহমান পারু।
‘বাজি’ প্রসঙ্গে আরশ খান বলেন, নাটকটি নিয়ে ভালো সাড়া পাচ্ছি। ইউটিউবে মুক্তির মাত্র ২২ ঘণ্টায় ১ মিলিয়নের বেশি ভিউ অতিক্রম করে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর। দর্শকদের জন্যই অভিনয় করা আর তা যদি গ্রহণযোগ্য হয় তবে পরবর্তী কাজের প্রতি উৎসাহ জাগে, আরও ভালো করার দায়িত্ববোধ বেড়ে যায়।
‘বাজি’ নাটক ছাড়া গত এক মাসে প্রকাশ পেয়েছে আরশ খান অভিনীত আরও কয়েকটি নাটক। এর মধ্যে মাবরুর রশিদ বান্নার ‘পজেশন’, ‘দ্য প্রিন্সেস অ্যান্ড দ্য ফ্রগ’, রাইসুল তমালের ‘তুমি এসেছিলে পরশু’, আদিব হাসানের ‘প্রেম আমার’, ‘প্রেম আমার ২’, মোহন আহমেদের ‘তুমি দূরত্ব চেয়ো না’। নাটকগুলোতে আরশ খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল, তাসনুভা তিশা ও ফারিহা রহমান পারু।
ইদানীং পারুর সঙ্গে বেশি কাজ করছেন আরশ খান। এই জুটির অভিনয় প্রশংসিত হচ্ছে দর্শক মহলে। নির্মাতারাও তাদের নিয়ে বারবার কাজ করছেন নতুন নতুন গল্পে। নাটক-সিনেমায় জুটির প্রথার বিষয়টি অনেক অভিনয়শিল্পীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভিন্ন মন্তব্য করেন আরশ খান। তিনি বলেন, জুটিনির্ভর হয়ে পড়া একজন শিল্পীর জন্য ইতিবাচক বলে আমার মনে হয় না।
এটি এক ধরনের দুর্বলতা। কোনো জুটি যখন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং পরবর্তী সময়ে তা ভেঙে যায়, তখন শিল্পীদের আগের সেই জনপ্রিয়তা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই জুটি বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়। তাতে শিল্পীর নিজস্ব সত্তা তৈরি হয় না। শিল্পীর নিজস্ব সত্তা জরুরি। প্রতিটি অভিনেতা-অভিনেত্রীর নিজের যোগ্যতায় অবস্থান তৈরি করা উচিত।
ক্যারিয়ারের শুরুতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন এই অভিনেতা। নাট্যজগতে তার বড় পরিবর্তন আসে সকাল আহমেদ পরিচালিত নাটক ‘রাখাল বালিকা’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপর থেকেই অভিনয়ে তার উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
বর্তমান ব্যস্ত নিয়ে আরশ খান জানান, এখন কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। অনেক প্রস্তাব এলেও মাসে ৭-৮টির বেশি নাটক করছেন না তিনি। আরশ খান বলেন, এখন বেছে বেছে কাজ করছি। সম্প্রতি কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছি। সব নাম মনে নেই। এই মুহূর্তে রাইসুল তমালের পরিচালনায় ‘অভিযোগ ছিল না’ নাটকটির কথা মনে পড়ছে। সুন্দর একটি গল্প। কাজটি করে ভালো লেগেছে। আশা করছি দর্শকদেরও ভালো লাগবে নাটকটি। এ ছাড়া সকাল আহমেদের ‘কোটা’সহ আরও কয়েকটি চিত্রনাট্য হাতে রয়েছে।
নাট্যাঙ্গনে কাজের অনেক ক্ষেত্র তৈরি হলেও অনেক অভিনয় শিল্পীই বেকার থাকছেন। কারও কারও অভিযোগ সিন্ডিকেট ছাড়া কাজ পাওয়া কঠিন। এ প্রসঙ্গে আরশ বলেন, সিন্ডিকেটের দিন এখন নেই। এটি ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। নির্মাতারা গল্পের জন্য যাকে যোগ্য মনে করছেন তাকে নিয়ে কাজ করছেন। তবে কয়েকটি টিভি চ্যানেল বড় বড় কাজের ক্ষেত্রে তাদের পছন্দমতো কিছু শিল্পী নিয়ে কাজ করছে। আমার প্রত্যাশা থাকবে অন্যদেরও সুযোগ দেওয়ার।
প্রতিনিয়তই প্রস্তাব পেলেও সব গল্পেই অভিনয় করেন না আরশ খান। বাছ-বিচার করেই কেবল ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। অভিনয়ের ক্ষেত্রে গল্প না চরিত্র কোনটিকে প্রাধান্য দেন? জানতে চাইলে এই অভিনেতা বলেন, দুটোকেই প্রাধান্য দিই। তবে আমার কাছে গল্পটা গুরুত্ব বেশি। কারণ দর্শক গল্প উপভোগ করতেই নাটক-সিনেমা দেখতে বসেন। গল্পের মধ্যেই চরিত্র উপস্থাপিত হয়।
এই সময়ের প্রায় দেখা যায় সিনেমার আদলে নির্মিত হচ্ছে নাটক। গল্প, চরিত্র ও নির্মাণে থাকছে সিনেমার ছোঁয়া। আরশ খান অভিনীত ‘বাজি’ নাটকেও তার কিছুটা প্রমাণ মেলেছে। এ প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, আসলে সময়ের সঙ্গে সবকিছুর আপডেট হচ্ছে। দর্শকের রুচিও আপডেট হয়েছে। প্রযুক্তির প্রসার ঘটেছে। হাতের মুঠোয় এখন বিনোদনের অনেক মাধ্যম। আগে শুধু টিভি চ্যানেল ছিল এখন ইউটিউব ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হয়েছে। দর্শক দেশীয় বিনোদনের পাশাপাশি ভিন দেশের বিনোদনও উপভোগ করছেন। তাই দর্শকদের চাহিদা বুঝেই নির্মাতারা নাটকে সিনেমার আবহ নিয়ে আসছেন। এটি সময়ের চাহিদা।
ছোটপর্দার অভিনয়শিল্পীদের স্বপ্ন থাকে বড়পর্দায় কাজ করার। কেউ কেউ প্রস্তাব পেয়েও নিজেকে আরও পরিণত করে অভিনয় করতে চান সিনেমায়। সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গে আরশ খান বলেন, বড়পর্দায় কাজের স্বপ্ন আমারও আছে। তবে আমি চাই প্রপার কমার্শিয়াল সিনেমা করতে। যা হবে সব শ্রেণির দর্শকদের জন্য।
নির্দিষ্ট দর্শকের জন্য যেন সীমাবদ্ধ না থাকে। এক্সপেরিমেন্টাল কাজ হয়তো পরে করা যাবে, তবে শুরুটা একদম গণমানুষের সিনেমা দিয়েই করতে চাই। শুধু নামে মাত্র সিনেমায় অভিনয় করতে চাই না। যা হবে তা যেন গ্রহণযোগ্য হয়। নয়তো অভিনয় করার জন্য তো নাটক-ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আছেই।
সময়ের আলো/কেএইচও