২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর থেকেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ। ৩৯ বছর বয়সি অধিনায়ক তখন কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে চাননি। তবে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন তিনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিইন স্পোর্টস জানিয়েছে, মেসি এখনই জাতীয় দল ছাড়ছেন না। আগামী কয়েক মাস আর্জেন্টিনার হয়ে খেলবেন, এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। অর্থাৎ ২০৩০ বিশ্বকাপে তাকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
২০২৬ বিশ্বকাপেই বয়সকে হার মানিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট নিয়ে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আসর শেষ করেন তিনি। যদিও ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। এরপর কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়ে দেন, জাতীয় দলের দরজা মেসির জন্য সবসময় খোলা থাকবে। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, নতুন প্রজন্মের হাতে দলকে গুছিয়ে দিয়েই বিদায় নিতে চান এই কিংবদন্তি।
মেসির সম্ভাব্য বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ বিদায়ি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনাও করছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। ভক্তদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সুযোগ করে দিতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির অর্জনের তালিকায় রয়েছে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফাইনালিসিমা এবং ২০২২ বিশ্বকাপের শিরোপা। এ ছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপেও তার নেতৃত্বে ফাইনালে খেলেছিল আর্জেন্টিনা।
মেসির অবসর নিয়ে জল্পনা চলার মধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারই হয়ে থাকল ৩৮ বছর বয়সি এই সেন্টারব্যাকের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বিদায় বার্তায় ওতামেন্দি লিখেছেন, ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন পূরণ করে দেশের হয়ে খেলতে পারাই তার
জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। বিশ্বকাপ ফাইনালে হার দিয়ে বিদায় নিতে হলেও তিনি মাথা উঁচু করেই মাঠ ছাড়ছেন, কারণ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দল নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি আর্জেন্টিনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।
২০০৯ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ওতামেন্দি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন ১৩৯টি ম্যাচ, করেছেন আটটি গোল। চারটি বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এই ডিফেন্ডার ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি জিতেছেন দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপাও। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপেও রক্ষণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবলে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন ওতামেন্দি। পোর্তো, ভ্যালেন্সিয়া, ম্যানচেস্টার সিটি ও বেনফিকায় দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষে তিনি যোগ দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেটে। ইতিমধ্যে নতুন দলের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করেছেন এবং বারাকাস সেন্ট্রালের বিপক্ষে ম্যাচে অভিষেক হতে পারে তার।
বিদায় বার্তায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উদ্দেশে ওতামেন্দির আহ্বান, কখনো যেন স্বপ্ন ও বিশ্বাস হারিয়ে না ফেলে। ত্যাগ, বিনয় ও ভালোবাসা দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সির মর্যাদা রক্ষা করলে নতুন সাফল্য অবশ্যই আসবে বলে বিশ্বাস তার।
মেসির সম্ভাব্য বিদায় আর ওতামেন্দির আনুষ্ঠানিক অবসরের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের একটি স্বর্ণালি যুগের অবসান ঘনিয়ে এসেছে। দুই কিংবদন্তির বিদায়ের পর নতুন প্রজন্মকে নিয়েই আগামী দিনের পথচলা শুরু করতে হবে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দলটিকে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও