বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে পূর্ণশক্তির দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। চোট কাটিয়ে ফিরেছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, অভিজ্ঞ পেসার জশ হ্যাজলউড ও অফস্পিনার নাথান লায়ন। নিয়মিত সব তারকাকে নিয়ে দল ঘোষণাকে বাংলাদেশের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ারই প্রমাণ হিসেবে দেখছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। টাইগার অধিনায়কের বিশ্বাস, এটি বাংলাদেশের টেস্ট দলের উন্নতিরই স্বীকৃতি।
গত জুনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে পূর্ণশক্তির দল পাঠায়নি অস্ট্রেলিয়া। সেই সফরে ওয়ানডে সিরিজেও হারের স্বাদ পেতে হয়েছিল তাদের। তবে এবার টেস্ট সিরিজে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটেনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণার পর বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন শান্ত।
শুক্রবার নতুন কুঁড়ি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘সাধারণত তো বাংলাদেশ ক্রিকেটে এরকম এর আগে আমি কখনো দেখিনি। সাধারণত আমাদের দলের সঙ্গে খেলার সময়ই হয়তো অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়ে থাকে। তবে আমি বলব যে এটা একটা অর্জন আমাদের দল হিসেবে আমি বলব। কারণ সাধারণত এরকম একটা দল ওরা দিয়েছে।’
শান্ত মনে করেন, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের দারুণ সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অগ্রগতিও প্রতিপক্ষকে সিরিজটি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে বাধ্য করেছে বলে তার বিশ্বাস।
তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের দলের জন্য অনেক বড় একটা সুযোগ যে ওই দলের বিরুদ্ধে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। আমি বলব যে ইতিমধ্যেই আমরা একটা ভালো অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি এই টেস্ট দল নিয়ে। কারণ আপনি যদি প্রতিপক্ষের দলটা দেখেন, এখানে বোঝা যাচ্ছে যে তারা সিরিজটা হালকাভাবে নেয়নি।’
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার দুই ম্যাচের এই সিরিজটি আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। সূচি অনুযায়ী আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি শুরু হবে ২২ আগস্ট, ম্যাকাইতে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসও দীর্ঘ বিরতির সাক্ষী। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে টাইগাররা। ফলে শুধু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টই নয়, প্রায় ২২ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও বড় মঞ্চ অপেক্ষা করছে শান্তদের সামনে।
তবে এই সফরে দলের অন্যতম পেসার নাহিদ রানাকে পাওয়া নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। গুঞ্জন আছে, প্রথম টেস্ট না খেলতে পারলেও দ্বিতীয় টেস্টে দেখা যাবে এই গতি তারকাকে। এ নিয়ে অবশ্য খুব বেশি কিছু বলতে পারেননি টাইগার অধিনায়ক, ‘(নাহিদ রানার ব্যাপারে) ফিজিও, ট্রেইনার এবং ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ থেকে ওরা ডিসিশন নেবে এবং ওরা ওইভাবে ম্যানেজ করছে। এর বাইরে আর বেশি কিছু না।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও