নিট প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ৩টায় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকে বসছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তবে বৈঠকের আগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে আন্দোলনকারীরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা লিখেছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। সরকার যদি এ বিষয়ে রাজি না হয়, তাহলে আর আলোচনার কোনো অর্থ নেই।
গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন সিজেপি প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে নাড্ডা জানান, আন্দোলনকারীদের তিনটি মূল দাবি ও পরীক্ষা সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচটি প্রস্তাব নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরে আলোচনা করা হবে। এরপর শনিবারের বৈঠকে সরকারের অবস্থান জানানো হবে।
সিজেপির তিন প্রধান দাবি হলো— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নফাঁস-পরবর্তী আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ।
দ্বিতীয় দফা বৈঠকে সরকার নীতিগতভাবে দুটি দাবিতে সম্মতি জানায়। সেগুলো হলো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে এনডিটিভির প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সম্ভাবনা নেই। সরকারের ভাষ্য, পদত্যাগই সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত। সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পাশেই রয়েছে।
অন্যদিকে প্রশ্নফাঁস রোধে গত দুই দিনে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসবিরোধী আইনে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করতে সংশোধনী আনার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া শিক্ষা সচিবকে বদলি করা হয়েছে এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)-এর ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তবে এসব পদক্ষেপকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন আশুতোষ রাঙ্কা। তার ভাষায়, ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করলেই দায় শেষ হয় না। প্রশ্নফাঁস এবং এর জেরে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার চূড়ান্ত দায় শিক্ষামন্ত্রীর। তাই তাকে পদত্যাগ করতেই হবে।
সময়ের আলো/কেএইচ