ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাতে এবার কুয়েত ও বাহরাইনও বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলার জবাবে দুই উপসাগরীয় দেশ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইরানের সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েত ও বাহরাইনের যুদ্ধবিমান ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গোয়েন্দা তথ্য ও প্রতিরক্ষামূলক আকাশ সহায়তা দিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এর আগে যুদ্ধের শুরুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে হামলা চালিয়েছিল। বিশেষ করে ইউএই ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন হামলা চালায়, যখন দেশটি ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত ও বাহরাইনের এই অংশগ্রহণ সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েত ও বাহরাইন।
সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে কুয়েত ও বাহরাইন সৌদি আরব ও ইউএইর তুলনায় ছোট শক্তি হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাহরাইন প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। দেশটি ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান তুলনামূলকভাবে সৌদি আরব ও ইউএইর পরিবর্তে কুয়েত ও বাহরাইনকে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর প্রায় সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হওয়ায় দেশ দুটি বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে।
সম্প্রতি কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান দেশটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলার ক্ষয়ক্ষতি সীমিত হলেও, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন— বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, কুয়েত ও বাহরাইনের সামরিক পদক্ষেপ যুদ্ধের সামগ্রিক ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে না। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। জুনে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ার পর আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে। এরই মধ্যে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলো এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ আকারের হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার নিয়ে টানা ১৩তম রাত ইরানে হামলা চালানো হয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ