ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করার দাবিতে আবারও সরব হয়েছেন। দিল্লির যন্তর মন্তরে ২৩ দিন ধরে অনশন করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শনিবার (২৫ জুলাই) সাক্ষাৎ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ভিডিও নয়, শিক্ষার্থীরা এখন পদক্ষেপ চায়।’
শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে রাহুল বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ‘দুর্নীতি ও ধ্বংসের প্রতীক’। তাকে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে সরিয়ে দিলেই হবে না, সরকার থেকেই অপসারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সরকারের ভেতরে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর আলোচনা চলছে বলে আমরা জেনেছি। এটি শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রধানকে সরকার থেকেই বিদায় নিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী মোদির সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তার প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রাত জেগে ভিডিও বানাচ্ছেন, তরুণদের পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আশ্বাস নয়, কার্যকর পদক্ষেপ চায়। প্রধানমন্ত্রীকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগও তুলে ধরেন কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গান ও লাঠিচার্জের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
রাহুল বলেন, ‘যারা আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের মূল্য দিতে হবে। যারা পেলেট ছুড়েছে এবং লাঠিচার্জ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ এ সময় দিল্লিতে আহত শিক্ষার্থীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রধান। তাই দিল্লিতে হামলার শিকার শিক্ষার্থীদের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।’
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি অতীতের প্রতিনিধিত্ব করেন, আর শিক্ষার্থীরাই ভারতের ভবিষ্যৎ। অতীত কখনো ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করে জিততে পারে না।’
এদিকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বরা জানান, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি আবারও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান।
সময়ের আলো/কেএইচ