বিশ্বমঞ্চে মার্কিন প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও একের পর এক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক তৎপরতায় তার কঠোর অবস্থানের বিপরীতে মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর অনাগ্রহ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘বিজয়ীরাই লুটের মাল পায়।’ আন্তর্জাতিক লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিতও দেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এমন অবস্থানের সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক মিত্র দেশের নীতির মিল দেখা যাচ্ছে না। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিশ্বকে ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বিদেশি হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, তার দেশের জলসীমায় বিমানবাহী রণতরী নয়, অপরাধে অর্থ ও অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধে সহযোগিতা প্রয়োজন।
ইরান যুদ্ধও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চাপ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকেও বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুই দেশের বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাস বাড়ানো ছাড়া দৃশ্যমান ফল সীমিত। শি তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউক্রেন যুদ্ধ ও গ্রিনল্যান্ড নিয়েও ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী বড় সাফল্য আসেনি। এর মধ্যে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় কংগ্রেসে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে।
ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমার বলেন, এখন কানাডা, ইউরোপ, চীন, ইরান ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ট্রাম্পকে ‘না’ বলতে বেশি আগ্রহী।
তবে হোয়াইট হাউস এ ধারণা প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ট্রাম্প ‘লোক দেখানো অবস্থান নিয়ে চিন্তিত নন, বরং ফলাফল নিয়ে চিন্তিত’।
সময়ের আলো/এমকে