ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলমান আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার (২৫ জুলাই) আন্দোলনকারী ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকে বসছে কেন্দ্রীয় সরকার। এদিকে আন্দোলনস্থলের বাইরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনার জেরে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা একটি পুলিশ বুথের কাচ ভাঙচুর করেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকেই যন্তর-মন্তর এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্ষোভকারীদের আটক করছে এবং খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আন্দোলনস্থলে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ছোড়ে পুলিশ।
এদিকে আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দাবি করেন, সরকার চাপে রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ না করা হলে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এর মধ্যেই শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সিজেপির তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবারের দ্বিতীয় দফা আলোচনায় আন্দোলনকারীদের দুটি দাবি— বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ— নীতিগতভাবে মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয় সরকার। তবে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে এখনও কোনো সমঝোতা হয়নি।
সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা শনিবার সকালে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ‘আলোচনার অযোগ্য’ (নন-নেগোশিয়েবল)। সরকার যদি এ বিষয়ে রাজি না হয়, তাহলে আলোচনার কোনো অর্থ নেই।
এদিকে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবি জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আশ্বাস নয়, কার্যকর পদক্ষেপ চায়।
অন্যদিকে, ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি; শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করেছেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লি মেট্রোর ১৮টি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আগামীকাল রোববার দেশব্যাপী মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি।
সময়ের আলো/কেএইচ