ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের ধৈর্য, সাহস এবং জবাবদিহির দাবির প্রশংসা করেছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) এক প্রতিক্রিয়ায় ওয়াংচুক বলেন, “এটি জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত গণতন্ত্রের জয়।”
তিনি আরও বলেন, “এই সাফল্যের জন্য ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব নাগরিক অভিনন্দনের দাবিদার। এখন জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।”
কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লিতে এনইইটি-ইউজি প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছিল।
সেই দাবি মেনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “দেশের ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা এবং তাদের আইনি জটিলতায় না জড়ানোর সুযোগ করে দিতেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপ সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “এটি একটি বড় বিজয় এবং সংবিধানভিত্তিক গণতন্ত্রের শক্তির প্রমাণ। তবে এখানেই শেষ নয়, বরং শিক্ষা সংস্কারের লড়াইয়ের সূচনা।”
এ সময় তিনি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকেও কটাক্ষ করে ধন্যবাদ জানান। অভিজিৎ বলেন, “বিচারপতির ‘ককরোচ’ মন্তব্য না এলে এই আন্দোলনের জন্মই হতো না।”
যদিও পরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন, তাঁর ওই মন্তব্য বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়, বরং ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে করা হয়েছিল। তবে সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই আন্দোলন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
সময়ের আলো/এমকে