১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত পাঁচ মাস বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের যে পরিকল্পনা, তার রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং উন্নয়নের পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি করেছেন, তা এখন বাস্তবায়নের মূল পরীক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকগণ এমনটাই ধারণা করছেন।
কোনো কোনো গণমাধ্যমে নিউজ করেছেন- অজানা এক পরিকল্পনার মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন।
‘আওয়ামী দুঃশাসনের পতনের মধ্যে দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার সাথে রাষ্ট্রপতি ফোনে কথা বলেছেন, এরকম জল্পনা তুঙ্গে ওঠার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মাধ্যমে সরকারে ও রাষ্ট্রের মধ্যে আওয়ামী লীগের যে প্রভাব বিস্তার লাভ করার প্রচেষ্টা তার অনেকটা কমবে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশনের তালিকায় দলটির নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুপস্থিতিতে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য, বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক আদর্শ দিয়ে মোকাবেলা করে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। এই প্রচেষ্টা যত দ্রুত শুরু হবে বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্যাকাশে উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এর দীর্ঘমেয়াদী বিএনপির সাফল্য আসবে, বিএনপি কোন উপায়ে রাজনৈতিক শক্তি ও বিরোধীদের মোকাবেলা করবে। অতীতের আওয়ামী লীগের মতোই দমন ও নিপীড়নের মাধ্যমে নাকি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দ্বন্দ্বের মীমাংসা করবে?
এ প্রশ্নের উত্তর শুধু বিএনপির কাছে আছে। বিএনপি কি শক্তিশালী গঠনমূলক বিরোধী দল ও দেশপ্রেমিক স্বাধীন গণমাধ্যম ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে সহ্য করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে?
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য যে স্বপ্ন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং গণতন্ত্রের মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেখেছিলেন, তা বাস্তবে প্রয়োগ করা যায়, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।
যা মধুযামিনী সময় পেড়িয়ে বাস্তবতা মোকাবিলা করবেন ঘোষিত ‘৩১-দফা’র ভিত্তিতে বিএনপি চেয়ারম্যান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
লেখক : সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী
সময়ের আলো/কেএইচও