ফেসবুকে আলাপ-অপলাপ

ড. কামরুজ্জামান

মতামত

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি তথ্য পাওয়া যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকে। ইলেকট্রনিক ও মুদ্রিত গণমাধ্যমগুলোও তাদের সংবাদ ও সংগৃহীত

2026-09-11T04:33:22+00:00
2026-09-11T04:33:22+00:00
 
  শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
ফেসবুকে আলাপ-অপলাপ
ড. কামরুজ্জামান
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৩ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি তথ্য পাওয়া যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকে। ইলেকট্রনিক ও মুদ্রিত গণমাধ্যমগুলোও তাদের সংবাদ ও সংগৃহীত তথ্য নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশ করে। ফলে সারা দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা কোনো না কোনোভাবে এসব গণমাধ্যমের সংবাদ দেখতে পান। পাশাপাশি ফেসবুক ব্যবহারকারীরাও নিজেদের আইডিতে নানা ধরনের তথ্য ও সংবাদ পোস্ট কিংবা শেয়ার করেন।

এক কথায় বলা যায়, ফেসবুক এখন অবাধে তথ্য প্রকাশের সহজ মাধ্যম। কিন্তু প্রশ্ন হলো— ফেসবুকে প্রকাশিত তথ্য বা পোস্ট কতটা সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও সংবাদ অনেক সময় সঠিকের চেয়ে বেশি বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে। কারণ কোনো একটি তথ্য বা সংবাদ ফেসবুকে পোস্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক সময় জানা যায় সেটি সঠিক নয়।

কোনো একটি ঘটনা নিয়ে একশ্রেণির ফেসবুক ব্যবহারকারী এক ধরনের তথ্য ও বক্তব্য পোস্ট করেন, আবার একই বিষয়ে অন্যরা ভিন্ন মতামত ও বক্তব্য দেন। এসবের পক্ষে-বিপক্ষে লাইক, মন্তব্য ও শেয়ারও হতে থাকে। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে।

মাদরাসায় পড়ুয়া কোনো শিশু শিক্ষার্থী কোনো শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিএনএ পরীক্ষায় সন্তানের বাবা হিসেবে ওই শিক্ষকের নাম প্রমাণিত হওয়ার পরও ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে দেখা যায়। এমনকি ডিএনএ পরীক্ষা নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ ব্যবহারের কারণে এ ধরনের তথ্য বিকৃতি সম্ভব হচ্ছে।

আমাদের দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন-সংগ্রাম সম্পর্কেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ভুল তথ্য ছড়ানো হয়। এসব ভুল তথ্যের কারণে মানুষ বিভ্রান্ত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য বিভ্রাট বা ভুল তথ্যের বিস্তার বর্তমান সময়ে একটি গুরুতর সমস্যা। এর ফলে প্রায়ই সামাজিক অসন্তোষ, গুজব ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। অনেক সময় পুরোনো ঘটনার ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে গুজব ছড়ানো হয়। মানুষের মধ্যে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করা হয়। মাঝে মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারও চালানো হয়। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা বিভিন্ন কারণে মহাসড়ক বন্ধ করে আন্দোলন করতেও দেখেছি।

ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপপ্রচারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো হয়। ছবি ও আইডি ব্যবহার করে এসব অপপ্রচার করা হয়। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এসব তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছু মানুষকে দেখা যায়, তারা কোনো বাছ-বিচার না করে, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই না করে এবং সঠিক-বেঠিক না বুঝেই নিজেদের আইডিতে বিভিন্ন তথ্য, ছবি ও সংবাদ পোস্ট বা শেয়ার করেন। পরে দেখা যায়, এসব তথ্য সঠিক নয়। আবার কেউ কেউ জেনে-বুঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ান। এর উদ্দেশ্য হতে পারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা কিংবা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কিছু শেয়ার করার আগে তথ্যের সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃত তথ্য প্রচার করা যেমন সহজ, তেমনি তথ্যের সঠিকতা যাচাই করার সুযোগও রয়েছে। সঠিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য মূলধারার পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। 

গুগল থেকেও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা সম্ভব। কারও ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার বা ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়।

জেনে হোক বা না জেনে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট দেওয়া বা কিছু শেয়ার করার আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। যারা মিথ্যা তথ্য প্রচার করেন বা তথ্য বিকৃত করেন, তাদেরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। মিথ্যা তথ্য সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার কারও জন্যই শুভকর নয়।

শিক্ষক, কলামিস্ট ও গবেষক
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
  বিষয়:   তথ্য  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম  ফেসবুক  ইলেকট্রনিক  মুদ্রিত  গণমাধ্যম  সংবাদ  সংগৃহীত তথ্য  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: