ভারতে নিট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে টানা আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করার পর এবার প্রশ্ন উঠেছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) কি পূর্ণকালীন রাজনীতিতে নামছে?
সংগঠনটির নেতারা বলছেন, আপাতত তাদের লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক দল গঠন নয়, বরং তরুণদের দাবিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করা।
এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রানকা বলেন, আন্দোলনের পর আপাতত তিনি পরিবারের কাছে ফিরতে এবং কিছুটা বিশ্রাম নিতে চান।
পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ভারতে কোনো সম্ভাবনাকেই পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না, অন্তত আমার এমনটাই মনে হয়।’
অন্য মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের লক্ষ্য একেবারেই পরিষ্কার। এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। দেশে ইতোমধ্যে ৭৫০ থেকে ৮০০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু তাদের কেউই তরুণদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাই আমরা এমন একটি জনভিত্তিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই, যাতে ক্ষমতায় যে দলই থাকুক না কেন, তারা তরুণদের দাবি পূরণে বাধ্য হয়। আপাতত এটাই আমাদের লক্ষ্য।’
রানকা জানান, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠকে যাওয়ার আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আজকের বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে।’ বৈঠকে বাকি দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা হয় এবং দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে রানকা বলেন, ‘গুরুতর অপরাধী ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের মধ্যে পার্থক্য করা অবশ্যই সম্ভব।’
তার দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে সিজেপির সংগঠক ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা না দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
দীর্ঘদিন আন্দোলনকারীদের ‘দেশবিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করার প্রসঙ্গ টেনে রানকা বলেন, ‘দিনের শেষে আমি মনে করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
সূত্র : এনডিটিভি
সময়ের আলো/এমকে