এবার রাজনৈতিক দল হিসাবে আসতে পারে সিজেপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের বহুল আলোচিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আপাতত পূর্ণকালীন রাজনীতিতে আসছে না। তবে ভবিষ্যতে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি সংগঠনটির

2026-07-26T09:39:32+00:00
2026-07-26T09:57:44+00:00
 
  শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১০ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
এবার রাজনৈতিক দল হিসাবে আসতে পারে সিজেপি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৯ এএম  আপডেট: ২৬.০৭.২০২৬ ৯:৫৭ এএম
সংগৃহীত ছবি
ভারতের বহুল আলোচিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আপাতত পূর্ণকালীন রাজনীতিতে আসছে না। তবে ভবিষ্যতে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি সংগঠনটির নেতারা। তাদের ভাষায়, এখন মূল লক্ষ্য যুবসমাজকে নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে একটি শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তোলা।

এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজেপির মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনের প্রধান দাবিগুলো মেনে নেওয়ার পর অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি শুধু বাড়ি ফিরতে চাই, বিশ্রাম নিতে চাই এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই। গত কয়েক মাস ধরে বাড়ির বাইরে আছি। গত দুই মাসে যা ঘটেছে, তা নিয়ে ভাবতে চাই। এটি আমাদের জন্য গর্বের, আনন্দের এবং স্বস্তির মুহূর্ত।’

পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভারতে কোনো কিছু নিয়েই কখনো ‘না’ বলা উচিত নয়।’ তবে সৌরভ দাস স্পষ্ট করে বলেন, আপাতত রাজনীতি তাদের লক্ষ্য নয়।

তিনি বলেন, ‘দেশে ইতোমধ্যে ৭৫০ থেকে ৮০০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু যুবসমাজের প্রত্যাশা পূরণে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমাদের লক্ষ্য এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে ক্ষমতায় যে দলই থাকুক না কেন, তারা তরুণদের দাবি পূরণে বাধ্য হয়।’

প্রায় এক মাস ধরে চলা এনইইটি প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের মুখে শুক্রবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। এটি ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়; বরং তিনি চান না, ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিক বা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় পড়ুক।

নরেন্দ্র মোদির সরকারের সময় জনচাপের মুখে পদত্যাগ করা তিনি দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর আগে ২০১৮ সালে #মিটু আন্দোলনের সময় যৌন হয়রানির অভিযোগের মুখে এম জে আকবর মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন।

অশুতোষ রাঙ্কা জানান, শনিবার বিজেপির সভাপতি জে.পি. নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে শেষ দফার বৈঠকের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক ইতিবাচক ছিল। তার দাবি, প্রতিনিধি দল বৈঠকে পৌঁছানোর আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর বাকি দুই দাবি নিয়ে আলোচনা হয় এবং দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, ‘সরকার যেভাবে আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে, আমরা সেই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান রাঙ্কা। তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী আর গুরুতর অপরাধীর মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব। শুরু থেকেই আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে ছিলাম। সমঝোতা অনুযায়ী আন্দোলনকারী ও সংগঠকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতেও নতুন মামলা করা হবে না।’

সরকার কেন আন্দোলনের দাবি মানতে প্রায় এক মাস সময় নিল— এ প্রশ্নের জবাবে রাঙ্কা বলেন, এর উত্তর সরকারের কাছ থেকেই পাওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘আমরাও নাড্ডাজিকে জিজ্ঞেস করেছি, শিক্ষার্থীদের ৩০ দিন রাস্তায় থাকতে হলো কেন? সরকার আরও আগেই আলোচনায় আসতে পারত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কেউ পেশাদার আন্দোলনকারী নই। আমরা সবাই নিজ নিজ পেশায় ছিলাম। আমাদের রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। আন্দোলনের অন্যতম নেতা অভিজিৎ দীপকে বোস্টনে পড়াশোনা করছিলেন। সম্ভবত এই আন্দোলন না হলে তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিতেন।’

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তার পদত্যাগপত্রে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কিছু গোষ্ঠী আন্দোলনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। এ প্রসঙ্গে রাঙ্কা বলেন, ‘আমি শুধু আশা করি, সরকার আমাদের আর রাষ্ট্রবিরোধী বা ভাইরাস বলে আখ্যায়িত করবে না। শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

সিময়ের আলো/কেএইচ

  বিষয়:   সময়ের আলো  ভারত  ককরোচ জনতা পার্টি  বিজেপি 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: