ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ও মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের কথিত যোগাযোগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগকে এ সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কলম্বিয়া সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের সিদ্ধান্ত গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও দুই দেশের মধ্যে কনস্যুলার সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।
কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবেলা দেশটির পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এসব নীতির আলোকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ও অন্যান্য মাদক-সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কথিত যোগাযোগও কলম্বিয়ার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব যোগাযোগকে দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণিত ঘটনা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়— এমন দেশগুলোর ওপর যাচাইকৃত হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানায় কলম্বিয়া।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পরিধি যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কার্যক্রমে তেহরানের কর্তৃপক্ষের বাধা দেওয়ার অভিযোগও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ইরান সরকারের প্রতি কলম্বিয়ার আস্থা ‘গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে বলে জানানো হয়।
কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলবার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া গত আগস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন। তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেয়।
এর আগে, সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সময়ে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল কলম্বিয়া।
নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের সিদ্ধান্তের কথা জানাল কলম্বিয়া। যদিও সিদ্ধান্তটি ১৯ সেপ্টেম্বর কার্যকর হয়, পাঁচ দিন পর ২৪ সেপ্টেম্বর তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ