অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এ লক্ষ্যে নাবলুসের কাছে তাল গ্রামে অভিযুক্তদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল এলা ওয়াওইয়া জানান, বাড়িগুলো অস্থায়ীভাবে সিলগালা করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এটি ভবনগুলো ধ্বংসের প্রাথমিক ধাপ।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠলে তাদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতি অনুসরণ করে আসছে ইসরায়েল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ নীতিকে সমষ্টিগত শাস্তি হিসেবে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করে আসছে।
শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলোর দাবি, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি হাভাত গিলাদ-এর কাছে অবস্থিত তাল গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িঘর রক্ষার চেষ্টা করলে বসতি স্থাপনকারীরা গুলি চালায়।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই এলাকায় ভ্রমণরত ইসরায়েলিদের ওপর হামলার খবর পেয়ে সেখানে সেনা পাঠানো হয়েছিল।
এদিকে পশ্চিম তীরের নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা শহরের আল-রাহমা মসজিদে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আল জাজিরা যাচাই করা ভিডিওতে মসজিদটিতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ফিলিস্তিনি ইনফরমেশন সেন্টার স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বসতি স্থাপনকারীরাই এ অগ্নিসংযোগ করেছে।
একই সময়ে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, পশ্চিম তীরজুড়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে অন্তত ৮০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মধ্যে তাল গ্রাম থেকে ৩০ জন, রামাল্লাহ থেকে ১৪ জন, জেনিন থেকে ৫ জন, হেবরন থেকে ৮ জন, বেথলেহেম থেকে ৩ জন এবং তুলকারেম থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া জেনিন শহর ও আশপাশের একাধিক শহর-গ্রামে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, পশ্চিম তীরজুড়ে প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন গ্রামের প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে এবং যান চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ