চট্টগ্রাম নগরে এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে ধরতে গিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখোমুখি হতে হয়েছে পুলিশ সদস্যদের। মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেফতারে পরিচালিত সেই অভিযানে আচমকা হামলা চালিয়েছে একদল উঠতি কিশোর গ্যাং সদস্য। তাদের ছোঁড়া পাথরের আঘাতে দুই উপপরিদর্শক (এসআই)-সহ পুলিশের অন্তত সাত সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে আটটার দিকে, খুলশী আমবাগান রেললাইন সংলগ্ন তরুণ সংঘ মাঠ এলাকায় এই হামলার ঘটনাটি ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ডবলমুরিং থানাধীন দেওয়ানহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মহসিন উদ্দিন রুবেল এবং আগ্রাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মমিনুল ইসলাম।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঝর্ণাপাড়া এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে সুসংগঠিতভাবে মাদকের বিস্তার ঘটানো সন্ত্রাসী আলমগীরকে গ্রেফতার করতে দেওয়ানহাট ও আগ্রাবাদ ফাঁড়ির যৌথ টিম অভিযানে নেমেছিল। তবে পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলার পরপরই আলমগীরের পোষা কিশোর গ্যাং বাহিনীর সদস্যরা চারিদিক থেকে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। তারা পুলিশ দলকে লক্ষ্য করে চারপাশ থেকে পাথর ছুড়তে শুরু করলে মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চারপাশ। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ইনচার্জসহ সাত পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত হন।
ঘটনার আকস্মিকতায় প্রাথমিক ধকল সামলে অতিরিক্ত পুলিশ বলয় ও স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠায়। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আমবাগান এলাকার সচেতন জনতা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। একপর্যায়ে আলমগীরের অনুসারীদের সঙ্গে উত্তেজিত জনতার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, এলাকাটি মূল ডবলমুরিং থানার আওতায় হলেও ঝর্ণাপাড়া ও আমবাগানজুড়ে আলমগীরের বিশাল মাদকের সাম্রাজ্য বিস্তৃত। এই বেপরোয়া বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চালাতে এবং এলাকা তটস্থ রাখতে একাধিক অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাং লালন-পালন করে আসছিল সে। শুধু আলমগীর একা নয়; তার মা রেনু বেগম এবং ভাই জাহাঙ্গীরসহ পুরো পরিবারই দীর্ঘ দিন ধরে এই অপকর্মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অভিযুক্ত আলমগীরের বিরুদ্ধে পূর্বেও অস্ত্র প্রদর্শন, সন্ত্রাস ও মাদক সম্পর্কিত ১৫টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। বারবার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেও জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিবারই পুনরায় সাম্রাজ্য গড়ে তোলে সে।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, পুলিশের ওপর হামলার মতো দুঃসাহস দেখানো সন্ত্রাসী বাহিনীকে দমনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। হামলার পরপরই গোটা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযানে নামে যৌথ দল। ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে ১৫ মামলার আসামি শীর্ষ মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বর্তমানে হামলায় জড়িত অন্যান্য গ্যাং সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি