ভারতের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলনের মধ্যেই জন্ম নেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের প্রথম আন্দোলনের সাফল্যের দাবি করেছে। সংগঠনটির দাবি, তাদের আন্দোলনের মুখেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
১৬ মে ২০২৬ সালে সিজেপির যাত্রা শুরু হয়। এর আগের দিন একটি মামলার শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তথাকথিত সমাজকর্মী ও বেকারদের ‘আরশোলা’ এবং ‘সমাজের পরজীবী’ বলে মন্তব্য করলে তা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আরশোলা’ পরিচয়ে একটি অনলাইন উপস্থিতির সূচনা হয়।
শুরুর দিকে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট প্রকাশ করা হতো। এর অনুসারীদের বড় অংশই ছিল জেনজি প্রজন্মের। পরে প্রধান বিচারপতি জানান, তার মন্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে তত দিনে ‘আরশোলা’ পরিচয়ের এই গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নেমে পড়ে।
ডাক্তারি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে আন্দোলনের ডাক দেয় তারা। রাজধানীতে টানা আন্দোলনের ৩৬ দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সিজেপি এটিকে তাদের প্রথম আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে দাবি করছে।
সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী থেকে রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হয়ে ওঠা অভিজিৎ দীপক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। বিদেশে জনসংযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করা এই তরুণই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে অ্যাকাউন্ট চালু করেন।
প্রথমদিকে সরকারি দল ও বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট প্রকাশের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটির অনুসারী দ্রুত বাড়তে থাকে। ফলোয়ার সংখ্যা ৯০ হাজার ছাড়ানোর পর অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করা হয়।
গত ২১ জুন ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারা ৬৯(এ) অনুযায়ী অ্যাকাউন্টটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সরকারের অভিযোগ ছিল, সিজেপির পোস্টগুলো ‘উসকানিমূলক’ এবং তরুণদের ‘ভুল’ বার্তা দিচ্ছে। পরে ‘ককরোচ ইজ ব্যাক’ নামে নতুন একটি অ্যাকাউন্ট চালু করা হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ২৬ মে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন অভিজিৎ।
আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ২১ জুন অনুষ্ঠিত নিট পুনঃপরীক্ষার আগে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের অ্যাকাউন্টটি ব্লক করা হয়েছিল। তবে আদালত সরকারের এই যুক্তিকে বৈধতা দেয়নি এবং ৭ জুলাই অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দেয়।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ এর আগে আম আদমি পার্টির (আপ) সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি দলটির প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের বাসিন্দা অভিজিৎ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। নিট ইস্যুর প্রতিবাদে অংশ নিতে গত ৬ জুন তিনি দেশে ফেরেন।
সময়ের আলো/আরবিএন