ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের দেশব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে উচ্ছ্বাস, দেশাত্মবোধক গান ও উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীরা এটিকে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে তুলে ধরেন।
অভিজিৎ দিপকে : ‘আমাকে নায়ক বানাবেন না’
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দিপকে ফোনে পদত্যাগের খবর পাওয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেন। এরপর আন্দোলনস্থলে উল্লাস শুরু হয়, বাজতে থাকে দেশাত্মবোধক গান।
তিনি বলেন, এই পদত্যাগ প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রে জনগণের শক্তি কাজ করে।
দিপকে বলেন, আমরা শুনতাম, এই সরকারের আমলে কেউ পদত্যাগ করেন না। কিন্তু পৃথিবীও নত হয়, শুধু তাকে নত করার মতো কেউ থাকতে হয়।
তবে তিনি সমর্থকদের তাকে নায়ক হিসেবে তুলে না ধরার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আজ ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন বলে আমাকে নায়ক বানাবেন না। একজন মানুষকে নায়ক বানানোর কারণেই দেশ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌরভ দাস : ‘এটা শুধু ট্রেলার’
সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আন্দোলনের শেষ নয়, বরং নতুন শুরুর ইঙ্গিত।
তিনি বলেন, এটা শুধু ট্রেলার। আসল ছবি এখনও বাকি। দেশের যুবসমাজ জেগে উঠেছে। এখন আমরা সারা দেশে যাব, তরুণদের সমস্যা শুনব, তাদের জন্য নীতি তৈরির দাবি জানাব এবং জবাবদিহি চাইব।
আশুতোষ রাঙ্কা : ‘দেশের যুবসমাজ জেগে উঠেছে’
সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, এটি সেই শিক্ষার্থীদের বিজয় যারা প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে জবাবদিহির দাবি তুলেছিল।
তিনি বলেন, এই দেশের যুবসমাজ জেগে উঠেছে। তারা নিজেদের অধিকারের জন্য লড়েছে এবং আজ আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।
তিনি প্রশ্নফাঁসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর কথাও উল্লেখ করেন।
রাঙ্কা বলেন, যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জন হারিয়েছে এবং যেসব লক্ষ-কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমরা তাদের কথা ভাবছি। আশা করি আজ কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার হয়েছে।
সোনম ওয়াংচুক : ‘এটি গণতন্ত্রের বিজয়’
আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এটি গণতন্ত্রের বিজয়। এটি শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের বিজয়। সিজেপি, দেশের জেন-জি এবং ভয় কাটিয়ে রাস্তায় নেমে আসা সব নাগরিককে অভিনন্দন।
তিনি আরও বলেন, এখন জবাবদিহির পর লক্ষ্য হবে সংস্কার।
নেহা বোরা : ‘এই বিজয় আন্দোলনের’
অনশনকারী শিক্ষার্থী নেত্রী নেহা বোরা প্রথমে এক্সে লেখেন, এবং আমরা জিতে গেলাম।
পরে তিনি বলেন, এই বিজয় প্রমাণ করে যে যুবসমাজ ও গণআন্দোলনের সামনে স্বৈরাচারী শক্তি পরাজিত হয়।
তিনি দাবি করেন, এই সাফল্য ৩৬ দিনের আন্দোলন, ২৩ দিনের অনশন এবং লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস সহ্য করেও লড়াই চালিয়ে যাওয়া সব আন্দোলনকারীর সম্মিলিত বিজয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ