কেন টুথপেস্টের টিউবের নিচে রঙিন দাগ থাকে

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

মুখ ও দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখতে টুথপেস্ট দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য একটি পণ্য। বাজারে বিভিন্ন ধরনের টুথপেস্ট পাওয়া যায়, যেগুলো কেনার

2026-07-26T23:27:55+00:00
2026-07-26T23:27:55+00:00
 
  সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬,
১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ফিচার
কেন টুথপেস্টের টিউবের নিচে রঙিন দাগ থাকে
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৭ পিএম 
টুথপেস্ট। সংগৃহীত ছবি
মুখ ও দাঁতের সুস্থতা বজায় রাখতে টুথপেস্ট দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য একটি পণ্য। বাজারে বিভিন্ন ধরনের টুথপেস্ট পাওয়া যায়, যেগুলো কেনার সময় মানুষ সাধারণত এর উপাদান, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, কার্যকারিতা এবং কখনো কখনো স্বাদের বিষয়টি বিবেচনা করেন। বেশিরভাগ টুথপেস্টের গায়ে লেখা থাকে—দাঁত সাদা করে, ক্যাভিটি প্রতিরোধ করে, টার্টার নিয়ন্ত্রণ করে কিংবা মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।  

তবে দীর্ঘদিন ধরেই টুথপেস্টের টিউবের নিচে থাকা ছোট রঙিন দাগ নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই রঙিন চিহ্ন দেখে টুথপেস্টের উপাদান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

প্রচলিত সেই দাবিতে বলা হয়, সবুজ রঙ মানে টুথপেস্টটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি, নীল মানে প্রাকৃতিক ও ওষুধজাত উপাদানের সমন্বয়, লাল মানে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণ এবং কালো মানে সম্পূর্ণ রাসায়নিক উপাদানে তৈরি।

কিন্তু বাস্তবে এই দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। টিউবের নিচের রঙিন দাগের সঙ্গে টুথপেস্টের উপাদান বা ফর্মুলার কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো মূলত উৎপাদন প্রক্রিয়ার অংশ। প্যাকেজিং মেশিনের অপটিক্যাল সেন্সর এই চিহ্ন শনাক্ত করে টিউব কোথায় কাটা, ভাঁজ করা বা সিল করা হবে, তা নির্ধারণ করে।


স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট হেলথলাইন জানিয়েছে, এই রঙিন দাগ কেবল উৎপাদন ও প্যাকেজিংয়ের সুবিধার জন্য ব্যবহৃত হয়। একই তথ্য দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টুথপেস্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোলগেট। প্রতিষ্ঠানটির মতে, টুথপেস্টে কোনো ‘কালার-কোডিং সিস্টেম’ নেই এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে উপাদান গোপন করার জন্য এসব দাগ ব্যবহার করা হয় না। 

এছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম স্নোপস এবং এএফপি ফ্যাক্ট-চেকও বিষয়টি যাচাই করে জানিয়েছে, টিউবের নিচের রঙিন দাগ নিয়ে প্রচলিত দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি একটি ইন্টারনেট গুজব। প্যাকেজিং বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দাগ আসলে ‘আই মার্ক’, যা মেশিনের লাইট সেন্সরকে সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকানও এই গুজবের একটি বড় ভুল তুলে ধরেছে। গুজবে বলা হয়, কালো রঙ মানেই ‘সম্পূর্ণ কেমিক্যাল’। অথচ বৈজ্ঞানিকভাবে পৃথিবীর প্রতিটি পদার্থ—পানি, বাতাস কিংবা উদ্ভিদ—সবই রাসায়নিক পদার্থ। তাই ‘প্রাকৃতিক’ ও ‘কেমিক্যাল’কে এভাবে আলাদা করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

এ ধরনের আই মার্ক শুধু সবুজ, নীল, লাল বা কালোই নয়; উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মেশিন ও সেন্সরের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন রঙের হতে পারে। অর্থাৎ রঙের সঙ্গে টুথপেস্টের মান বা উপাদানের কোনো সম্পর্ক নেই।

সেন্সর প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এক্সএসজেড জানিয়েছে, এসব সেন্সর মানুষের চোখের মতো রঙ শনাক্ত করে না। বরং টিউবের ব্যাকগ্রাউন্ড ও প্রিন্ট করা চিহ্নের মধ্যে আলোর প্রতিফলনের পার্থক্য শনাক্ত করে কাজ করে। টিউবের সাদা অংশ থেকে গাঢ় রঙের আই মার্কে আলো পড়লে প্রতিফলনের পরিবর্তন সেন্সর শনাক্ত করে এবং সঙ্গে সঙ্গে মেশিনকে সংকেত পাঠায়। ফলে প্রতি মিনিটে হাজার হাজার টিউব নির্ভুলভাবে কাটা ও সিল করা সম্ভব হয়।

অ্যাভন-এর সিনিয়র প্যাকেজিং ইঞ্জিনিয়ার জোনাথন কুসুর ভাষ্য অনুযায়ী, টিউবের নকশা যাতে ঠিকমতো মাঝখানে থাকে এবং কাটিং মেশিন নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে, সে কারণেই এই অপটিক্যাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়।

টুথপেস্টে কী কী উপাদান রয়েছে, তা জানতে হলে টিউবের গায়ে লেখা উপাদানের তালিকা পড়াই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। সাধারণত টুথপেস্টে গ্লিসারল ও সরবিটলের মতো উপাদান ব্যবহার করা হয় যাতে এটি শুকিয়ে শক্ত না হয়ে যায়। আবার ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ও সিলিকার মতো ঘষামাজা উপাদান দাঁতের ময়লা ও খাবারের কণা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

সবশেষে বলা যায়, টুথপেস্টের টিউবের নিচের রঙিন দাগের সঙ্গে এর উপাদান বা গুণগত মানের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই টুথপেস্ট কেনার সময় এই রঙ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পণ্যের উপাদান, অনুমোদনের সিল, মেয়াদ এবং নিজের প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজনে একজন দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   টুথপেস্ট  টিউব  রঙিন দাগ 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: