সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। বিষয়টি জানা থাকলেও অনেকেই খাবার বাছাইয়ের সময় পুষ্টির চেয়ে স্বাদকেই বেশি গুরুত্ব দেন। কিন্তু এমন অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কী খাচ্ছেন, কতটুকু খাচ্ছেন এবং কখন খাচ্ছেন এসবই শরীরের সুস্থতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই ইচ্ছেমতো খাবার খাওয়ার অভ্যাস থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
পুষ্টিকর ও সুষম খাবারের অভাবে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে পুষ্টিঘাটতি, দুর্বলতা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে দিনের শুরুতে পুষ্টিকর নাশতা না করলে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায় না, যার প্রভাব পড়ে সারাদিনের কর্মক্ষমতা ও মনোযোগে।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, সকালের নাশতা কখনোই বাদ দেওয়া উচিত নয়। তবে নাশতায় কী রাখা হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দিনের শুরুতে গ্রহণ করা খাবারই শরীরের শক্তির প্রধান উৎস।
লেবু ও মধু মেশানো পানি
অনেকেই সকালে খালি পেটে লেবু ও মধু মিশিয়ে পানি পান করেন। তবে লেবুতে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়, তারা শুধু মধু মিশিয়েও পানি পান করতে পারেন।
মধুতে বিভিন্ন খনিজ, ভিটামিন ও উৎসেচক রয়েছে, যা শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। খালি পেটে মধু গ্রহণ করলে বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) সক্রিয় হয় এবং শরীর থেকে টক্সিন বের হতে সাহায্য করে।
ভেজানো কাঠবাদাম
পুষ্টিবিদদের মতে, সকালে খালি পেটে কয়েকটি ভেজানো কাঠবাদাম খেলে সারাদিন শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়া যায়। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
কাঠবাদামে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই, প্রোটিন, ফাইবার, ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ পেতে কাঠবাদাম সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খাওয়া ভালো।
ডিম
ডিম অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। তাই সকালের নাশতায় সেদ্ধ ডিম বা অমলেট রাখতে পারেন। এতে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে, ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে না এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।
ওটস ও পাকা কলা
অনেকে নাশতায় দুধ বা টকদইয়ের সঙ্গে ওটস খান। তবে ওটস ও পাকা কলা দিয়ে পরিজ তৈরি করে খেলে তা আরও উপকারী হতে পারে। এটি শরীরে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে।
পরিজ তৈরির জন্য প্রথমে কড়াইয়ে ওটস হালকা ভেজে নিন। এরপর দুই কাপ পানি দিয়ে রান্না করুন। কিছুটা ঘন হলে আধা কাপ দুধ যোগ করুন। এরপর দুই চামচ গুড় বা মধু মিশিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। ঠান্ডা হলে ওপরে আমন্ড, কাজু কিংবা ইচ্ছেমতো কলা ও আপেল কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করতে পারেন।
ফল
সকালের নাশতায় অবশ্যই মৌসুমি ফল রাখা উচিত। অনেকের ধারণা, খালি পেটে ফল খাওয়া ঠিক নয়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর বা উপোস ভাঙার সময় ফল খাওয়া উপকারী।
ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ফাইবার ও পানি থাকে, যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
সময়ের আলো/আরবিএন