ভারতে সদ্য শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর ধর্মেন্দ্র প্রধান আজ প্রথম সংসদে পৌঁছালে স্বাগত জানাতে বিজেপি ও এনডিএর বহু সাংসদ জড়ো হন।
ওডিশার সাংসদ ধর্মেন্দ্র প্রধান গাড়ি থেকে নেমে হাসিমুখে সবাইকে নমস্কার জানান এবং সংসদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় শাসকদলীয় সাংসদরা "ধর্মেন্দ্র প্রধান জিন্দাবাদ" স্লোগান দিতে থাকেন।
সংসদ চত্বরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। এক সাংসদ তার মাথায় ঐতিহ্যবাহী টুপি পরিয়ে দেন এবং কাঁধে একটি শাল জড়িয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তারা ওডিশার এই নেতার প্রতি নিজেদের সমর্থন প্রকাশ করেন।
এক সাংসদ মন্তব্য করেন, এই প্রথম কোনো মন্ত্রী কোনো ব্যক্তিগত দুর্নীতির অভিযোগ ছাড়াই পদত্যাগ করলেন।
বিরোধী কংগ্রেস এনইইটি (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছিল।
এ সময় কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ বলেন, এমন তো হয়ই।
এর জবাবে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, কিছুই হয়নি। আমি একজন স্ট্রিট ফাইটার, এসি-ঘরে বসে রাজনীতি করা কর্মী নই।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে, বিজেপি তাকে দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে আনতে পারে অথবা আগামী পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের নেতৃত্ব দিতে পারে।
তার সমর্থকদের মতে, তিনি "জাতীয় স্বার্থে" নিজের মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছেন। এর ফলে জনগণ ও তার সংসদীয় কেন্দ্র সম্বলপুরে তার ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে।
শনিবার এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত ১০ দিনের ঘটনাবলি আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। এটি আমার ব্যক্তিগত সম্মানের বিষয় নয়।
তিনি আরও বলেন, ভারতের যুবশক্তিই দেশের প্রকৃত শক্তি। আমার অঙ্গীকার, দেশের তরুণদের বিভ্রান্তির দুষ্টচক্রে আটকে পড়তে দেব না।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পরবর্তী ভূমিকা কী হতে পারে?
ওডিশা বিজেপির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হওয়ার পাশাপাশি তিনি জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সাম্প্রতিক বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ছিলেন। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর প্রচারেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও, হরিয়ানায় দলের সাফল্যের পেছনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এর আগে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং কর্ণাটকসহ একাধিক রাজ্যে দলের নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করে সাফল্য এনে দিয়েছেন তিনি।
পদত্যাগের পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার বাসভবনে যান। এছাড়া বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, দলের সভাপতি নীতিন নবীন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংসহ অনেকেই শিক্ষা ক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধানের আনা সংস্কারের প্রশংসা করেছেন।
বিজেপি নেতাদের মতে, তার পদত্যাগ রাজনৈতিক দুর্বলতার লক্ষণ নয়; বরং এটি "রাজনৈতিক জবাবদিহিতা", "ত্যাগ" এবং "জাতীয় স্বার্থের প্রতি অঙ্গীকারের" একটি উদাহরণ।
৫৭ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ওডিশা বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। জুয়েল ওরামের পাশাপাশি তিনিই ছিলেন রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আরেকজন মন্ত্রী।
দলীয় সূত্রের দাবি, এই পদত্যাগে ওডিশায় তার প্রভাব কমবে না। ২০১৪ সাল থেকে রাজ্যে বিজেপির বিস্তার এবং ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের বড় সাফল্যের পেছনে তার বড় অবদান রয়েছে। ওডিশার ৭৮ জন বিজেপি বিধায়কের অধিকাংশ এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রায় ৪০ শতাংশ মন্ত্রীকে তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ