অভিযুক্তের আতিথ্যে তদন্ত কমিটির মধ্যাহ্নভোজ, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

বাগেরহাট প্রতিনিধি

সারাদেশ

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাইমিনুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালেই তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গেরেস্টুরেন্টে

2026-07-27T23:38:14+00:00
2026-07-27T23:38:14+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬,
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
অভিযুক্তের আতিথ্যে তদন্ত কমিটির মধ্যাহ্নভোজ, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাইমিনুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালেই তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গেরেস্টুরেন্টে তার খাবার খাওয়ার ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আরও গুরুতর অভিযোগ, রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মুহাইমিনুলকে খাবারের বিল পরিশোধ করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষকসহ সচেতন মহল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চিতলমারী বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও ফকিরহাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিহার রঞ্জন সমাদ্দার, সদস্য শরণখোলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মাসুম বিল্লাহ, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক আদুরী রাণী ব্রহ্ম, চিতলমারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কাওছার আহমেদ, বাগেরহাট থেকে নিয়ে যাওয়া এমদাদ পাইক নামে এক মিলার এবং অভিযোগের মুখে থাকা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মুহাইমিনুল একসঙ্গে খাবার খান।

রেস্টুরেন্ট-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই সময় প্রায় ৪ হাজার টাকার খাবার পরিবেশন করা হয়। একই সূত্র জানায়, রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মুহাইমিনুলকে খাবারের বিল পরিশোধ করতে দেখা গেছে।


এ ঘটনা প্রকাশের পর স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্ত চলাকালেই তার সঙ্গে তদন্তকারীদের একসঙ্গে খাবার খাওয়া এবং তার মাধ্যমে বিল পরিশোধের অভিযোগ তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদন কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক আদুরী রাণী ব্রহ্ম বলেন, আমি অভিযুক্ত ব্যক্তির টাকায় খাবার খাইনি। কমিটির আহ্বায়ক আমাকে সেখানে নিয়ে গেছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মুহাইমিনুল ক্যাশ কাউন্টারে বিল পরিশোধ করেছেন এ বিষয় তিনি অস্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, আমি এন্জেলমিলের মালিক এমদাদ পাইককে সাথে নিয়ে তার গাড়িতে গিয়েছি ।

একটি নির্ভর যোগ্য সূত্র জানায়, অভিযুক্ত খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাইমিনুলের সাথে মিলার এমদাদ পাইকের সখ্যতা ভাল থাকায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার মিল থেকে চিতলমারীর গুদামের জন্য  চাল নেয় যার ফলে তার সাথে সম্পর্কটা ভাল থাকাই স্বাভাবিক। সূত্রটি ধারনা করছে মিল মালিক এমদাদ পাইক এর মাধ্যমে দফারফা হওয়ার জন্যই তাকে তদন্ত কমিটির সাথে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা দিলোয়ার হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে আপ্যায়ন গ্রহণ করা ঠিক হয়নি। আপনাদের প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিতলমারী উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাইমিনুলের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, চিতলমারী উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাইমিনুলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত চলাকালেই অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তদন্ত কমিটির সদস্যদের একসঙ্গে খাবার খাওয়ার ঘটনা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   বাগেরহাট  চিতলমারী  কর্মকর্তা  অনিয়ম  স্বেচ্ছাচারিতা  দুর্নীতি  অভিযোগ  তদন্ত  রেস্টুরেন্ট  বিতর্ক  খুলনা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: