দেশে ২০২৫ সালে ধর্ষণের শিকার হওয়া কন্যাশিশুদের মধ্যে বেশিরভাগের বয়স ৬ থেকে ৯ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। মহিলা পরিষদের জরিপে বলা হয়েছে, দেশে ২০২৫ সালে ২৪২ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়। এর মধ্যে ৬ থেকে ৯ বছরের কন্যাশিশু ৮৬টি। ২ থেকে ৯ বছরের মধ্যে এ বয়সের শিশুরাই বেশি ধর্ষণের শিকার। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে ১০-১৩ বছরের শিশুরা। এ বয়সের ৭০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে গত বছর।
১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়ার কথা বলছে মহিলা পরিষদ। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫’ শিরোনামের এই জরিপের ফলাফল তুলে ধরে সংগঠনটি।
মহিলা পরিষদের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান জরিপের ফল তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির পাশাপাশি হত্যা, আত্মহত্যা, যৌতুক ও বাল্যবিয়েসহ বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সমীক্ষার পর্যবেক্ষণ আমাদের সামনে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সহিংসতার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে নারীর কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই নারী সহিংসতার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। কন্যাশিশুদের এ বয়সই প্রমাণ করে, ধর্ষণের জন্য কখনোই ভুক্তভোগী দায়ী নয়। দায়ী অপরাধী এবং সেই সামাজিক মানসিকতা, যা অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়।
জরিপের ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে মহিলা পরিষদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি