তিল, চিনাবাদাম ও পাটের কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে খুশি পাবনার কৃষক

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

চলতি মৌসুমে পাবনার বেড়া উপজেলার চর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তৈল জাতীয় ফসল তিল, চিনাবাদাম এবং সোনালি আঁশ পাটের বাম্পার ফলন

2026-07-28T10:41:31+00:00
2026-07-28T10:42:34+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬,
১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
তিল, চিনাবাদাম ও পাটের কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে খুশি পাবনার কৃষক
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪১ এএম  আপডেট: ২৮.০৭.২০২৬ ১০:৪২ এএম
তিল, চিনাবাদাম এবং সোনালি আঁশ পাটের বাম্পার ফলন ও কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা। ছবি : সময়ের আলো
চলতি মৌসুমে পাবনার বেড়া উপজেলার চর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তৈল জাতীয় ফসল তিল, চিনাবাদাম এবং সোনালি আঁশ পাটের বাম্পার ফলন ও কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা।

সরেজমিনে সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাকালিয়া হাট ঘুরে দেখা যায়, চর এলাকা থেকে কৃষকরা বস্তা বস্তা তিল এবং চিনাবাদাম নাকালিয়া বাজারে এনে আড়তে বিক্রি করছেন।

নাকালিয়া বাজারের আড়তদার ওয়াহিদুজ্জামান কহু বলেন, ‘এ বছর তিল, পাট, চিনা বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। স্থানীয় কৃষকরা প্রায় ফসলেই আশাতীত দাম পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।’

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ বছর প্রায় সব ধরনের ফসলেরই বাম্পার ফলন হয়েছে। এসব ফসলাদি হাট, বাজারে বিক্রি করে আশানুরূপ দামও পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে কৃষকরা একদিকে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন, অন্যদিকে চাষাবাদে আরও আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় চিনাবাদাম ১ হাজার ৫৬৫ হেক্টর, তিল ২ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং পাট ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল।

উপজেলার চরাঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি মণ চিনা বাদাম ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা, তিল প্রতি মণ ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা এবং পাট প্রতি মণ ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে।


হাটুরিয়া গ্রামের পরান শেখ জানান, তিনি ১৩ বিঘা জমিতে চাষ করে মোট ৪২ মণ তিল পেয়েছেন, প্রতি মণ তিল গড়ে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

চর পেচাকোলা গ্রামের আলম শেখ জানান, তিনি এ বছর ৯ বিঘা জমিতে তিল চাষ করে ২৭ মণ তিল পেয়েছেন এবং বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পেয়েছেন, যা দিয়ে আগামী দুই মাসের সংসার খরচ অনায়াসে মিটাতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

পেচাকোলা গ্রামের পাট চাষি আবু হানিফ জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৩ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন অনেক ভালো হয়েছে। দুদিন আগে প্রতিমণ শুকনো পাট ৪ হাজার ৬০০ টাকা দরে হাটে বিক্রি করেছেন।

চর নাগদাহ গ্রামের কৃষক এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদ মোল্লা জানান, তিল এবং চিনাবাদামের সিংহভাগ ফসল উৎপাদিত হয় চরাঞ্চলে। তিনি এ বছর ৫ বিঘা জমিতে চাষ করে প্রায় ৩৫ মণ চিনাবাদাম পেয়েছিলেন। শুকনো বাদাম প্রতিমণ ৫ হাজার টাকা দরে আরও অনেক আগেই বিক্রি করছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘পাটের আবাদ চরাঞ্চলে অল্প পরিমাণ হয়। তবে যেটুকু হয়েছে, অনেক ভালো ফলন হয়েছে।’

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর বলেন, ‘তিল এবং চিনাবাদাম কাটা শেষ হয়েছে। অল্প কিছু জমির পাট কাটা এখনো বাকি রয়েছে। নিয়মিত মাঠ তদারকি এবং চাষে উদ্বুদ্ধকরণে কৃষি অফিস থেকে প্রান্তিক কৃষকদের নানা প্রণোদনাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

সময়ের আলো/মহু



  বিষয়:   তিল  চিনাবাদাম  পাট  দাম  পাবনা  কৃষক  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: