বর্ষাকালে গর্তে পানি জমে যাওয়ায় অনেক সময় সাপ আশ্রয় ও খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে, এমনকি বাড়ির ভেতরেও ঢুকে পড়ে। এ সময় অনেকেই সাপ তাড়াতে কার্বলিক অ্যাসিড ব্যবহার করেন। তবে এটি বিষাক্ত হওয়ায় মানুষ ও গৃহপালিত প্রাণীর জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই তুলনামূলক নিরাপদ কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বনের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এসব পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। সাপ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ঝোপঝাড় ও ইঁদুরের উপদ্রব কমানো এবং দেয়াল বা দরজার ফাঁকফোকর বন্ধ রাখা।
যেসব উপায় অনেকে ব্যবহার করেন : -
ন্যাপথলিন : দরজার নিচে, জানালার ফাঁকে বা গুদামঘরের কোণে ন্যাপথলিনের বল রাখা হয়। এর তীব্র গন্ধ সাপ দূরে রাখতে সহায়ক বলে অনেকের ধারণা। তবে শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখতে হবে, কারণ ন্যাপথলিন বিষাক্ত।
অ্যামোনিয়া : একটি কাপড় অ্যামোনিয়ায় ভিজিয়ে পলিথিনে রেখে সাপ ঢোকার সম্ভাব্য স্থানে রাখা হয়। তীব্র গন্ধের কারণে সাপ ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে পারে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে অ্যামোনিয়া ব্যবহারে সতর্কতা প্রয়োজন।
সাদা ভিনেগার ও লবণ : সাদা ভিনেগার ও লবণ মিশিয়ে কাপড় ভিজিয়ে জানালার পাশে, নালা বা জমা পানির আশপাশে রাখা হয়। অনেকে মনে করেন, এর গন্ধ সাপকে দূরে রাখে।
রসুন ও পেঁয়াজ : রসুন ও পেঁয়াজ থেঁতো করে স্যাঁতসেঁতে স্থান, ফাঁকফোকর বা জানালার পাশে ছড়িয়ে রাখা হয়। এতে থাকা সালফারযুক্ত যৌগের গন্ধ সাপ অপছন্দ করে— এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে।
সাপে কামড়ালে কী করবেন
চিকিৎসকদের মতে, সাপে কামড়ালে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে হবে। বিশেষ করে প্রথম এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীকে বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সাপ প্রতিরোধে ঘরোয়া উপায়ের চেয়ে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, ঝোপঝাড় অপসারণ, ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ এবং দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ রাখাই সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ ব্যবস্থা।
সময়ের আলো/কেএইচও