দুয়ারে কড়া নাড়ছে এশিয়ান গেমস হকি। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর জাপানে অনুষ্ঠিত হবে গেমসের ১৮তম আসর। মেগা এই ইভেন্ট সামনে রেখে ইতিমধ্যে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ঢাকার মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুশীলন ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। দেশের পরিচিত মুখ মশিউর রহমান বিপ্লবের কোচিংয়ে অনুশীলন ক্যাম্প চলছে। তবে বিপ্লবকে আর বেশি দিন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে না। তার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন জার্মানির গেরহার্ড পিটার। হকি ফেডারেশন সূত্রে এমনটাই জানা গেছে। সূত্র মতে, দুই-তিন দিনের মধ্যে গেরহার্ড দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন। জার্মান এ কোচের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা পাকা হয়ে গেছে। গেরহার্ড ছাড়াও আর চার বিদেশি কোচিং প্যানেলে যুক্ত হচ্ছেন।
গেরহার্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের হকির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০০৯ সালের এপ্রিলে প্রথম আসেন বাংলাদেশ হকি দলের কোচিং পরিচালক হিসেবে তার যাত্রা। ২০১৬ পর্যন্ত কাজ করেন জাতীয় দল এবং ক্লাব পর্যায়ে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বে ফেরেন গেরহার্ড। তবে সে বছরের সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পদত্যাগ করেন। গেরহার্ডের সময়েই জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ উন্নত হয়। জার্মান লিগে খেলার সুযোগ তৈরি হয়। গেরহার্ডের হাত ধরেই জিমি, শিতুল, আশরাফুল, বাবু, রাব্বিরা জার্মান লিগে খেলার সুযোগ পান। সেই যাত্রা এখনও চলমান।
হকির বয়সভিত্তিক কিংবা নারী হকি দলের পারফরম্যান্স ভালো হলেও, জাতীয় পুরুষ দলের পারফরম্যান্স বেশ হতাশার। অনেক দিন ধরেই সাফল্যশূন্য। এমনকি গেল এপ্রিলে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বেও ভালো ফল করতে পারেনি দল। পঞ্চম স্থানে থেকে কোনোমতে এশিয়ান গেমসের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে লাল-সবুজরা। অথচ এর আগে এই আসরেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি রয়েছে তাদের। দলের এমন পারফরম্যান্সের কথা চিন্তা করেই হয়তো হকির নতুন অ্যাডহক কমিটি এবার গেরহার্ডের দ্বারস্থ হয়েছেন। দলকে নিয়ে নতুন পরিকল্পনা আঁটছে বর্তমান কমিটি। গেরহার্ডকে দলে অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি দল নিয়েও বড় পরিকল্পনা রয়েছে। এশিয়ান গেমসের আগে জার্মানিতে এক মাসের ট্রেনিং ক্যাম্পের পরিকল্পনা রয়েছে, এর বাইরে সেখানকার স্থানীয় দলগুলোর বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলারও পরিকল্পনার কথা জানায় ফেডারেশন সূত্র।
এশিয়ান গেমসের গত আসরে অর্থাৎ ২০২২ সালে চীনের হাংজুতে অনুষ্ঠিত গেমসে অষ্টম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৮ সালে জাকার্তায় অনুষ্ঠিত গেমসে হয়েছিল ষষ্ঠ। যা লাল-সবুজের ইতিহাসে সেরা সাফল্য। এবার পুরোনো সাফল্য ছুঁতে পারবে তো দল? তবে তার আগে সেরা একটা দলও গঠন করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে কমিটির। সেই লক্ষ্যেও কাজ করছে অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা। আসন্ন এশিয়ান গেমসে এবার এ-গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া। বি-গ্রুপে পড়েছে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, চীন, ওমান, উজবেকিস্তান ও থাইল্যান্ড।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর জাপান, ২৪ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা, ২৬ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া এবং ২৮ সেপ্টেম্বর গ্রুপপর্বের সবশেষ ম্যাচে বাংলাদেশ লড়বে ভারতের বিপক্ষে।
সময়ের আলো/আরবিএন/প্রিন্ট