আর্জেন্টিনার নতুন চমক কে এই কিকি রামোস

সময়ের আলো ডেস্ক

খেলা

লিওনেল মেসি ও ডিয়েগো ম্যারাডোনাদের মতো কিংবদন্তি ফুটবলার উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনা। এবার ভিন্ন এক কারণে আলোচনায় উঠে এসেছেন তরুণ উইঙ্গার

2026-07-29T20:16:01+00:00
2026-07-29T20:16:01+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খেলা
আর্জেন্টিনার নতুন চমক কে এই কিকি রামোস
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৬ পিএম 
আর্জেন্টিনার জার্সি হাতে কিকি রামোস। সংগৃহীত ছবি
লিওনেল মেসি ও ডিয়েগো ম্যারাডোনাদের মতো কিংবদন্তি ফুটবলার উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনা। এবার ভিন্ন এক কারণে আলোচনায় উঠে এসেছেন তরুণ উইঙ্গার স্টিফেন কিকি রামোস। সার্সফিল্ডের অন্যতম প্রতিভাবান এই ফুটবলার হাইতিতে জন্ম নেওয়া প্রথম খেলোয়াড়, যিনি আর্জেন্টিনার কোনো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন।

২০০৯ সালের ৩ এপ্রিল হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে জন্মগ্রহণ করেন রামোস। ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর মাত্র আট মাস বয়সে এক আর্জেন্টাইন পরিবার তাকে দত্তক নেয় এবং সেখান থেকেই তার নতুন জীবনের শুরু।   

আর্জেন্টিনাতেই বেড়ে ওঠায় দেশটির সংস্কৃতির সঙ্গে পুরোপুরি মিশে গেছেন রামোস। স্প্যানিশ ভাষাও তিনি বুয়েনস এইরেসের স্বাভাবিক উচ্চারণেই বলেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তার কথা বলার ধরন দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক মজা করে লিখেছেন, সে ডুলসে দে লেচে আর মাতে পানীয়ের মতোই আর্জেন্টাইন।

প্রতিবেশীর মাধ্যমে ছোটবেলায় ভেলেজ সার্সফিল্ডের একাডেমিতে যোগ দেন রামোস। দুর্দান্ত গতি, শারীরিক শক্তি এবং ওয়ান টু ওয়ান ডিফেন্ডার কাটিয়ে ওঠার সামর্থ্যের কারণে খুব দ্রুতই নজর কাড়েন তিনি। মূলত উইঙ্গার হিসেবে খেলা রামোসের সরাসরি আক্রমণাত্মক স্টাইলের কারণে অনেকেই তার সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের তুলনা করছেন। 


২০২৫ সালে চোটের কারণে তার উন্নতির গতি কিছুটা থেমে গেলেও দারুণভাবে ফিরে আসেন তিনি। ভেলেজের যুব দলে অসাধারণ একটি মৌসুম কাটিয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের যুব প্রতিযোগিতায় ১২টি গোল করেন। সেই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ২০২৬ সালে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ ডিয়েগো প্লাসেন্তে তাকে এজেইজায় আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ডাকেন। এই ডাকের মাধ্যমে ইতিহাস গড়েন রামোস। হাইতিতে জন্ম নেওয়া প্রথম ফুটবলার হিসেবে আর্জেন্টিনার যেকোনো জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পান তিনি। 

রামোসকে ঘিরে উত্তেজনার কারণ শুধু তার ফুটবল প্রতিভা নয়, বরং তার অনন্য জীবনগল্পও। ভবিষ্যতে যদি তিনি আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে জায়গা করে নিতে পারেন তবে আলবিসেলেস্তের জার্সি পরা আফ্রিকান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের সংক্ষিপ্ত তালিকায় যুক্ত হবেন তিনি। 

এর আগে, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন এমন কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলার হলেন আলেহান্দ্রো দে লস সান্তোস, সাবেক অধিনায়ক হোসে রামোস দেলগাদো এবং ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক হেক্টর বালেই। সাম্প্রতিক সময়ে ক্লেমেন্তে রদ্রিগেস, ক্রিস্তিয়ান মেদিনা এবং আইরটন কস্তাও আর্জেন্টিনার বৈচিত্র্যময় ফুটবল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

তবে রামোসের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। প্রথমে ভেলেজের সিনিয়র দলে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোন দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। কারণ ফিফার যোগ্যতা-সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী হাইতিতে জন্ম নেওয়ায় ভবিষ্যতে চাইলে তিনি আর্জেন্টিনা কিংবা হাইতি— দুই দেশের যেকোনো একটির হয়েই খেলতে পারবেন। 



সময়ের আলো/ইউএমএইচ

  বিষয়:   কিকি রামোস  ফুটবল  আর্জেন্টিনা 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: