বুকের ভেতর স্বজন হারানোর তীব্র যন্ত্রণা, ঘরে পড়ে আছে পরম স্নেহের বাবার নিথর দেহ। এমন এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতিতেও অশ্রুসিক্ত চোখে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে হাজির হলো ১৮ বছর বয়সি মাসুমা আক্তার। বাবার রেখে যাওয়া স্বপ্ন আর ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানাতেই শোকের পাহাড় চেপে ধরে পরীক্ষার খাতায় কলম চালাতে হয়েছে এই পরীক্ষার্থীকে। বুধবার সকালে যশোরের বেনাপোল কেন্দ্রভিত্তিক শার্শা উপজেলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী মাসুমা আক্তার এই অদম্য মানসিকতার পরিচয় দেয়। এ সময় তার এক হাতে চোখের পানি মোছার জন্য ছিল রুমাল, আর অন্য হাতে ছিল কলম। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেয় সে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেনাপোলের নামাজগ্রামের নিজ বাড়িতে হঠাৎ স্ট্রোক করেন মাসুমার বাবা আমদানিকারক আব্দুস সামাদ। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বুধবার সকালে বেনাপোল কলেজ পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। সকাল ১০টার আগেই চোখ মুছতে মুছতে কেন্দ্রে প্রবেশ করে মাসুমা। সহপাঠী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সহায়তায় পরীক্ষার কক্ষে আসন গ্রহণ করে সে। এক হাতে রুমাল দিয়ে চোখ মুছে অন্য হাতে সে লিখে গেছে পরীক্ষার প্রতিটি উত্তর। পরীক্ষা শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই (দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে) খাতা জমা দিয়ে দ্রুত বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় সে। মাসুমা বলে, বাবা আমাকে খুব ভালোবাসতেন। সবসময় বলতেন পড়াশোনা করে অনেক বড় হতে হবে। এই অবস্থায় পরীক্ষা না দিলে বাবার আত্মা কষ্ট পেত। তাই বাবার ইচ্ছাপূরণ করতেই আমি পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়েছিলাম।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, বাবাকে হারানোর কষ্ট অপরিসীম। এই চরম শোকের মধ্যেও মাসুমার সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধ প্রশংসনীয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তার সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর রাখছি এবং পাশে থাকার চেষ্টা করছি।
বেনাপোল কলেজের কেন্দ্রসচিব ও অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান শান্তি বলেন, বুধবার সকালে আমরা তার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারি।
শোক সামলে সে যাতে সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারে সে জন্য আমরা মানসিকভাবে তার পাশে ছিলাম। তাকে নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।