হবিগঞ্জের পর এবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। দলটির দাবি, বিএনপির নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়ে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় পৌরসভা গেটসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোলাপগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে জুলাই আন্দোলনে নিহত সাত শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে নেতাকর্মীরা বের হওয়ার সময় তাদের গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এ সময় গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে কয়েকটি গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায় বলে দাবি করেছে দলটি।
ঘটনার পর দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম লেখেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
এর আগে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জুলাই আন্দোলনে নিহত সাত শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সার্জিস আলম। সেখানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিনেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গুলির নির্দেশদাতাসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য শোনার পর সার্জিস জুলাইয়ের শহীদদের হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
পরে তিনি ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের দাবি জানান।
সার্জিস আলম বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রশাসনের আচরণ পক্ষপাতমূলক ছিল। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।’
এদিকে একই দিন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) এক আলোচনা সভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের হত্যার বিচার সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কারও শেষ করতে হবে। বিচার ও সংস্কার ছাড়া দেশের কারও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নেই।’
এনসিপির নেতারা তাদের বক্তব্যে জুলাইয়ের শহীদদের বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার, রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক দলের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে সার্জিস আলমের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/এসএকে