বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম এলাকায় মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন শুনানি শেষে এই গ্রেফতারের আদেশ প্রদান করেন।
দুপুরে আদালতের হাজতখানা থেকে তাকে এজলাসের কাঠগড়ায় এনে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেফতার আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে কলিমুল্লাহকে ‘নিশিরাতের ভোটের বৈধতা প্রদানকারী’ এবং শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার বানানোর অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ও সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবী হিসেবে আখ্যা দেন।
এ সময় আইনজীবীর মুখে ‘ঢাবির সাবেক অধ্যাপক’ শুনে কাঠগড়া থেকে কলিমুল্লাহ বলেন, সাবেক না, সাবেক না। আমি এখনো অধ্যাপক।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশীদ বলেন, কলিমুল্লাহ কোনো সন্ত্রাসী নন, তিনি একজন শিক্ষক। মামলার তালিকায় ৬১-৬২ নম্বরে নাম থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য মামলায় জামিনে থাকার পর হঠাৎ নতুন করে কেন তাকে এই মামলায় যুক্ত করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আইনি যুক্তিতর্কের একপর্যায়ে বিচারকের কাছে এক মিনিট কথা বলার অনুমতি পান কলিমুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে যা দেখেছি, কেবল সেটাই প্রকাশ করেছি। এতে আমার কোনো অপরাধ নেই। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত যা ঘটেছে আমি সেটাই দেখেছি, এর আগে-পরে কিছু হলে তা আমার জানা ছিল না।’
বিচারক পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, সেটা তো আপনারই দায়িত্ব ছিল, আগে-পরের ঘটনা তো আপনার জানার কথা।
কলিমুল্লাহ আরও বলেন, ‘রংপুরে আবু সাঈদ হত্যার প্রথম প্রতিবাদ আমিই করেছিলাম এবং জুলাই আন্দোলনকে আমি নীতিগতভাবে সমর্থন দিয়েছি, এর কোনো বিপক্ষে কাজ করিনি।’
শুনানি শেষে বিচারক বলেন, ‘আপনার নির্বাচনী আর্টিকেল আমিও পড়েছি।’ এরপরই নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
সময়ের আলো/জেডি