দুই স্কুলের এক ইআইআইএন, সমাধান মেলেনি ২০ বছরেও

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও স্বীকৃতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো তার নাম এবং ইআইআইএন। শিক্ষা প্রশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী একটি ইআইআইএন নম্বর

2026-07-30T20:12:13+00:00
2026-07-30T20:12:13+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬,
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
দুই স্কুলের এক ইআইআইএন, সমাধান মেলেনি ২০ বছরেও
রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৮:১২ পিএম 
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় একই নাম ও একই ইআইআইএন নম্বরে দুটি পৃথক মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ছবি : সময়ের আলো
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও স্বীকৃতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো তার নাম এবং ইআইআইএন। শিক্ষা প্রশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী একটি ইআইআইএন নম্বর কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের জন্যই বরাদ্দ থাকে। কিন্তু নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় একই নাম ও একই ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে প্রায় দুই দশক ধরে পরিচালিত হচ্ছে দুটি পৃথক মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এতে শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামে ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী কোহিনুর জুট মিলস হাই স্কুল। দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হওয়ার পর ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়টি পাঁচজন শিক্ষকসহ এমপিওভুক্ত হয়। তবে ২০০৫ সালের পর অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে প্রতিষ্ঠানটিতে সংকটের সূত্রপাত ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই বিরোধের পর তৎকালীন দুই শিক্ষক মো. আতিকুর রহমান ও আহসান হাবিবকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর ২০০৬ সালে পার্শ্ববর্তী মহেশপুর ইউনিয়নের ঘাগটিয়া এলাকায় একই নাম ও একই ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে ঘাগটিয়া কোহিনুর জুট মিলস হাই স্কুল (কেজেএম) নামে আরেকটি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। সেই থেকে একই পরিচয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চললেও আজও জট কাটেনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি কাগজপত্রে দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আটজন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের তথ্য থাকলেও বাস্তবে সাতজন শিক্ষক বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ঘাগটিয়া কেজেএম হাই স্কুলে। অপরদিকে গৌরিপুরের মূল কোহিনুর জুট মিলস হাই স্কুলে রয়েছেন মাত্র একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক।


আরও জানা গেছে, মূল বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক প্রায় ২০ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন শিক্ষা-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একই নাম ও ইআইআইএন নম্বর ব্যবহারের কারণে শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন ডাটাবেজ, এমপিও সংক্রান্ত কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন, সরকারি নথিপত্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

নিজেকে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক দাবি করে মো. আতিকুর রহমান বলেন, ২০০৬ সালের শেষার্ধে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আবু মোহাম্মদের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি ঘাগটিয়া এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। ২০০৭ সাল থেকে আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। পরে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাই। আদালতের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে।

তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সামালগীর আলম বলেন, গৌরিপুরের কোহিনুর জুট মিলস হাই স্কুলই মূল প্রতিষ্ঠান। তবে ঘাগটিয়া কোহিনুর জুট মিলস হাই স্কুলটি বর্তমানে আদালতের একটি আদেশের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।


রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই আসবে।

এ বিষয়ে নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ঘাগটিয়া কেজেএম হাই স্কুলের কোনও বৈধতা নেই। প্রতিষ্ঠানটিকে অবিলম্বে তার মূল স্থানে ফিরে যেতে হবে।

প্রায় ২০ বছর ধরে একই নাম ও একই ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে দুটি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় শিক্ষা প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি আরও বাড়বে এবং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   রায়পুরা  নরসিংদী  স্কুল  ইআইআইএন  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: