ইসলামের ইতিহাসে জুমার দিনের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক ঈদ, ইবাদত, ঐক্য এবং আত্মশুদ্ধির এক মহিমান্বিত দিন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর কুবা থেকে মদিনার পথে বনু সালিম ইবন আওফ গোত্রের এলাকায় সর্বপ্রথম জুমার নামাজ আদায় করেন। সেদিন তিনি যে খুতবা প্রদান করেছিলেন, সেটিই ইসলামের ইতিহাসে প্রথম জুমার খুতবা হিসেবে স্বীকৃত। ঈমান, তাকওয়া, পরকালের প্রস্তুতি এবং আল্লাহর আনুগত্যের আহ্বানে সমৃদ্ধ এই খুতবা যুগে যুগে মুসলমানদের জন্য দিকনির্দেশনা ও প্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।
ইসলামের প্রথম জুমা ভাষণ
মহানবী (সা.) আল্লাহর প্রশংসা, সাহায্য প্রার্থনা, ক্ষমা ও হেদায়াত কামনার মাধ্যমে খুতবা শুরু করেন। তিনি বলেন, তিনি একমাত্র আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন এবং যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে, তাদের পথকে প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি ঘোষণা করেন, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল। এমন এক সময়ে আল্লাহ তাঁকে সত্য, হেদায়াত ও উপদেশসহ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, যখন মানুষ সত্যপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল এবং কিয়ামত ক্রমেই নিকটবর্তী হচ্ছিল।
নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, সে হেদায়াত লাভ করবে। আর যে অবাধ্য হবে, সে পথভ্রষ্ট হবে।
এরপর তিনি মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ হিসেবে তাকওয়া বা আল্লাহভীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একজন মুসলমানের জন্য আরেক মুসলমানের সর্বোত্তম উপদেশ হলো তাকে পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং তাকওয়া অর্জনের আহ্বান জানানো।
তিনি সবাইকে আল্লাহ যেসব বিষয় থেকে সতর্ক করেছেন, সেগুলো থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেন। তাঁর ভাষায়, তাকওয়ার চেয়ে উত্তম উপদেশ ও কল্যাণের পথ আর কিছু নেই। প্রকৃত তাকওয়াই মানুষকে পরকালের সফলতার দিকে নিয়ে যায়।
মহানবী (সা.) আরও বলেন, যে ব্যক্তি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের প্রকাশ্য ও গোপন জীবনকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালনা করবে, সে দুনিয়ায় সম্মান লাভ করবে এবং আখিরাতের জন্য অমূল্য সম্পদ সঞ্চয় করবে। কারণ মৃত্যুর পর মানুষ শুধু তার সৎকর্মেরই উপকার পাবে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তিনি কখনো নিজের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না এবং কারও প্রতি জুলুম করেন না।
খুতবায় তিনি আবারও তাকওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে চলবে, আল্লাহ তার গুনাহ ক্ষমা করবেন, মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তাকে মহাসাফল্য দান করবেন। তাকওয়া মানুষকে আল্লাহর অসন্তোষ ও শাস্তি থেকে রক্ষা করে এবং তাকে সম্মানিত করে।
শেষ অংশে মহানবী (সা.) মুসলমানদের বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করার, আখিরাতের জন্য আমল করার এবং আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ঠিক করে নেবে, আল্লাহ তার দুনিয়ার সব বিষয় সহজ করে দেবেন। কারণ প্রকৃত ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহরই। তাঁর সাহায্য ছাড়া মানুষের কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।
সময়ের আলো/এসএকে