ইসলামে জুমার নামাজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম (ভ্রমণরত নন) সকল মুসলিম পুরুষদের জন্য জুমার নামাজ ফরজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ করে দাও।’ (সুরা জুমু'আ, আয়াত : ৯)।
তবে কোনো কারণে যদি কারও জুমার নামাজ ছুটে যায়, তাহলে তার করণীয় সম্পর্কে ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
যদি কেউ এমন সময় মসজিদে পৌঁছান, যখন ইমাম রুকুতে আছেন এবং তিনি ইমামের সঙ্গে রুকুতে শরিক হতে পারেন, তাহলে তিনি সেই রাকাত পেয়ে যাবেন। আর যদি তিনি দ্বিতীয় রাকাতের রুকুও না পান, অর্থাৎ জুমার দুই রাকাতই ছুটে যায়, তাহলে তার জুমা আদায় হবে না। সেক্ষেত্রে তাকে চার রাকাত যোহরের নামাজ আদায় করতে হবে।
এ বিষয়ে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো নামাজের এক রাকাত পেয়ে যায়, সে যেন পুরো নামাজই পেয়ে গেল।’ ( বুখারি, হাদিস : ৫৮০)।
আবার বিনা কারণে বারবার জুমার নামাজ ত্যাগ করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যারা জুমা ত্যাগ করে, তারা যেন অবশ্যই এ কাজ থেকে বিরত থাকে। অন্যথায় আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন, ফলে তারা গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৮৬৫)।
অন্য আরেক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি অবহেলাবশত পরপর তিনটি জুমা ত্যাগ করে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৫২)।
তবে অসুস্থতা, সফর, প্রবল বৃষ্টি বা শরিয়তসম্মত অন্য কোনো ওজরের কারণে জুমায় উপস্থিত হতে না পারলে গুনাহ হবে না। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে চার রাকাত যোহরের নামাজ আদায় করতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, জুমার নামাজ মুসলমানের সাপ্তাহিক একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও ঈমানি চেতনা জাগ্রত করার অন্যতম মাধ্যম। তাই যথাসময়ে মসজিদে উপস্থিত হয়ে মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা এবং জুমার নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব। আর যদি অনিবার্য কারণে জুমা ছুটে যায়, তাহলে হতাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে তওবা করে চার রাকাত যোহরের নামাজ আদায় করতে হবে এবং ভবিষ্যতে জুমা আদায়ে আরও যত্নবান হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
সময়ের আলো/এসএকে