আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। যার ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকেন, তার জীবন দুনিয়াতেও শান্তিময় হয়, আর আখিরাতে তার জন্য থাকে চিরস্থায়ী সফলতা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কী করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া যায়?
পবিত্র কুরআন ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের এমন কিছু সহজ আমলের শিক্ষা দিয়েছেন, যা নিয়মিত পালন করলে ঈমান আরও দৃঢ় হয়, ইবাদতে মনোযোগ বাড়ে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন সহজ হয়।
প্রথমত, প্রতিদিন অর্থসহ কুরআন পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শুধু তিলাওয়াত নয়, কুরআনের অর্থ বোঝা এবং তা নিয়ে চিন্তা করাও গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না?’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৮২)। প্রতিদিন অল্প সময় হলেও কুরআনের শিক্ষা জানার চেষ্টা করুন।
দ্বিতীয়ত, সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির নিয়মিত পড়ুন। পাশাপাশি বেশি বেশি ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’ ও ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ুন। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রা'দ, আয়াত : ২৮)।
রাসুল (সা.)-ও বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করে, আর যে করে না, তাদের উদাহরণ জীবিত ও মৃত মানুষের মতো।
তৃতীয়ত, প্রতিটি ফরজ নামাজের পর এই দোয়াটি পড়ুন—‘আল্লাহুম্মা আ'ইন্নি আলা জিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিক।’ অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! আমাকে আপনার স্মরণ, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সুন্দরভাবে ইবাদত করার তৌফিক দিন।’ এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া।
চতুর্থত, সুযোগ হলে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার অভ্যাস করুন। রাতের শেষ ভাগ আল্লাহর কাছে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। সপ্তাহে কয়েক দিন হলেও দুই রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করার চেষ্টা করুন।
পঞ্চমত, আল্লাহর সুন্দর নামগুলো (আসমাউল হুসনা) জানুন ও সেগুলোর অর্থ নিয়ে ভাবুন। যেমন— আর-রহমান (পরম করুণাময়), আল-গফ্ফার (অত্যন্ত ক্ষমাশীল) ও আল-হাকীম (প্রজ্ঞাময়)। এসব নামের অর্থ হৃদয়ে ধারণ করলে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হয়।
তবে একটি বিষয় সবসময় মনে রাখতে হবে— নফল ইবাদতের আগে ফরজ ইবাদতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, হালাল-হারাম মেনে চলা এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করাই আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মূল পথ। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, বান্দা ফরজ ইবাদতের চেয়ে প্রিয় কোনো আমলের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করতে পারে না।
তাই আজ থেকেই ছোট ছোট আমল নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত নিন। আন্তরিকতা ও ইখলাসের সঙ্গে অল্প আমলও আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর ভালোবাসা, সন্তুষ্টি এবং জান্নাতের পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।
সময়ের আলো/এসএকে