ধর্মকে পুঁজি করে বাংলাদেশের পাহাড় কিংবা সমতল কোথাও কোনও প্রকার বিভেদ বিভাজন এবং চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বেলা ১২ টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি গোষ্ঠী, সমতলের গোষ্ঠী, ভাষা, বর্ণ লিঙ্গ এবং ধর্ম কোন কিছুর ভিত্তিতেই বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কোন ধরনের বিভেদ বিভাজন তৈরি করা প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ও দৃশ্যমান অদৃশ্যমান কোন চক্রান্তকে বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না। কোন ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ ব্যবহার করতে চায়, কোন রাষ্ট্রকে ধর্মের মাধ্যমে গ্রাস করবে — বুঝতে হবে সে সৃষ্টিকর্তার বিরোধিতা করে, মানবতার বিরোধিতা করে এবং ধর্মের মূল মর্মবাদের বিরোধিতা করে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাজনীতির কোন মার্কা দেবত্ব প্রদত্ত মার্কা নয়। রাজনৈতিক মার্কা রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক নেতা কোন দেব-দেবী নয়। রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের সমস্ত বক্তব্য জনগণের কল্যাণের জন্য। যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণ তার কল্যাণ কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করবে ততক্ষণ সেই দল, সেই মার্কা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য থাকবে। আর যখন থাকবে না তখন বর্জন করে দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের ধর্মচর্চা তখনই সার্থক হবে যখন আমরা ধর্মচর্চাকারীরা ধর্মব্যবসায়ীদেরকে সঠিকভাবে চিনতে পারব। আমরা যে যার ধর্মকে কঠিন ভাবে চর্চা ও বিশ্বাস করব। সেই কারণেই আমরা সকল ধর্মকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করব। যখনই আপনার, আমার ধর্ম বিশ্বাস, চর্চাকে কোন মহল সূক্ষ্ম ভাবে একটি সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার জন্য চক্রান্ত করবে সাথে সাথে ধর্মপ্রাণ মানুষ ওই ধর্মব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করবেন।
তথ্য মন্ত্রী বলেন, আমরা যারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে সকল মানুষের সমান অধিকার নিয়ে লাগাতার ভাবে কথা বলে চলছি সেই মানুষের পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজনীতিতে দর্শন, চিন্তা, আদর্শ কোন ধর্মীয় দর্শন আদর্শ নয়। ধর্মীয় দর্শন, আদর্শ সর্ব শক্তিমান কে ঘিরে আবর্তিত হয়। রাজনীতির যেকোনো চিন্তা সেই জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে।
আমরা যারা আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আছি আমরা ইতিহাসের অংশ থেকে গভীরভাবে পার করেছি। আমরা জানি আপনাদের কাছে দেয়া দেওয়া ওয়াদা যদি আমরা পূরণ না করি ইতিহাস আবারো পুনরাবৃত্তি হতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপনাদেরকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনা সভায় বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল সিটি কপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আলোচনা সভার শুরুতে ৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সময়ের আলো/আতা