ময়নাতদন্ত-ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় ঝুলে আছে শতাধিক মামলা

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

সারাদেশ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) ও ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় সীতাকুণ্ড মডেল থানার শতাধিক

2026-07-31T19:28:46+00:00
2026-07-31T19:28:46+00:00
 
  শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ময়নাতদন্ত-ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় ঝুলে আছে শতাধিক মামলা
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৮ পিএম 
ময়নাতদন্ত-ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় ঝুলে আছে শতাধিক মামলা
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) ও ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় সীতাকুণ্ড মডেল থানার শতাধিক হত্যা, অস্বাভাবিক মৃত্যু ও ধর্ষণ মামলার তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। তদন্তের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট না পাওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করতে পারছে না পুলিশ। ফলে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ প্রতীক্ষায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ মামলায় ভিকটিম ও আলামত সংক্রান্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট সময়মতো না আসায় আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে না। ১০ মাস থেকে এক বছর, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও বেশি সময় ধরে এসব রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে অনেক মামলার নথি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে আছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যা, অস্বাভাবিক মৃত্যু কিংবা ধর্ষণ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য নথি। এসব রিপোর্ট ছাড়া আইনগতভাবে তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। ফলে বিচার কার্যক্রমও পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নেওয়া যায় না।


তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, চমেক হাসপাতাল থেকে এসব স্পর্শকাতর মামলার রিপোর্ট দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শুধু সীতাকুণ্ড নয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় আটকে থাকা বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা সময়ের আলোকে বলেন, সাধারণ মানুষ অনেক সময় তদন্তে বিলম্বের জন্য পুলিশকে দায়ী করেন। কিন্তু বাস্তবে চমেক হাসপাতালের রিপোর্ট না পাওয়ায় পুলিশ আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারে না। এতে জনমনে পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে দীর্ঘসূত্রতা বিচারব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে শুধু তদন্তই বিলম্বিত হচ্ছে না, বরং ভুক্তভোগী পরিবারও দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, মামলা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে অপরাধের শিকার পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয় এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি তাদের আস্থা কমে যায়।

তিনি বলেন, সময় যত গড়ায়, স্পর্শকাতর মামলার সাক্ষীদের স্মৃতি দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী আসামিরা সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানো, হুমকি দেওয়া কিংবা আর্থিক প্রলোভনের মাধ্যমে প্রভাবিত করার সুযোগ পায়। এতে প্রকৃত বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা না গেলে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা আইনি সুযোগ নিয়ে জামিনে বেরিয়ে আসতে পারে। পরে তারা বিচার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার বা পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।


এ অবস্থায় ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন মানসিক ও আর্থিক ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। ধর্ষণ বা হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার শিকার পরিবারগুলো এমনিতেই গভীর মানসিক আঘাত বহন করে। তার ওপর বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকায় আদালতে বারবার যাতায়াত ও আইনি ব্যয় তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

লতিফপুর আলহাজ্ব আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাস্টার জহুরুল আলম সময়ের আলোকে বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত হলো অপরাধের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে অপরাধীদের মধ্যে পার পেয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হতে পারে, যা সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির আশঙ্কা সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সময়মতো ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট না পাওয়ায় আদালতে মামলাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিলে বিলম্ব হচ্ছে। এটি শুধু সীতাকুণ্ড থানার সমস্যা নয়; চট্টগ্রামের অন্যান্য থানার পুলিশও একই সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   ময়নাতদন্ত  ডিএনএ রিপোর্ট  মামলা  সীতাকুণ্ড  চট্টগ্রাম  সময়ের আলো  আদালত  বিচার  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: