২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ঐতিহাসিক বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পর ১১ বছর পূর্ণ হয়ে ১২ বছরে পা দিল বিলুপ্ত ছিটমহলগুলো। দীর্ঘ ৬৮ বছরের পরিচয়হীনতা ও রাষ্ট্রহীন জীবনের অবসান ঘটিয়ে পঞ্চগড় জেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়া ৩৬টি বিলুপ্ত ছিটমহলে এখন পরিবর্তনের দৃশ্যমান ছোঁয়া লেগেছে।
একসময় বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝামাঝি অবস্থানে থেকেও ছিটমহলবাসীরা কোনো দেশেরই নাগরিকত্ব পেতেন না। বঞ্চিত ছিলেন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ভোট প্রদান ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সুবিধা থেকে। চুক্তি বাস্তবায়নের পর পঞ্চগড়ের গারাতিসহ ৩৬টি ছিটমহলের মানুষ আজ বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুফল ভোগ করছেন।
গত ১১ বছরে এসব এলাকার যোগাযোগ ও অবকাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অধিকাংশ কাঁচা সড়ক এখন পাকা হয়েছে, ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ। স্থাপন করা হয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কমিউনিটি ক্লিনিক। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পণ্য বাজারজাতকরণ আগের চেয়ে অনেক সহজ ও লাভজনক হয়েছে।
তবে এতসব দৃশ্যমান উন্নয়নের মাঝেও কিছু অপূর্ণতা রয়ে গেছে। তরুণদের আইটি প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নির্মিত তথ্যকেন্দ্র (ডিজিটাল সেন্টার) এবং পোস্ট অফিসটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। এগুলো দ্রুত চালু করা হলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকুরিয়া পারভীন জানান, ছিটমহলবাসীদের মূলধারার সাথে টিকিয়ে রাখতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করেছে। বন্ধ থাকা ডিজিটাল সেন্টারসহ যে সকল অবকাঠামোগত কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করে অন্যান্য অঞ্চলের নাগরিকদের মতোই সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
সময়ের আলো/জেডি