জীবনের বাঁকে বাঁকে নেমে আসতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত স্থবিরতা। ক্যারিয়ারের জটিলতা, চাকরি পাওয়ার ব্যর্থতা কিংবা প্রিয় কোনো মানুষের দেওয়া আঘাত— সব মিলিয়ে মনে হতে পারে সামনে এগোনোর আর কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। কিন্তু এই অদৃশ্য দেয়ালগুলোই মূলত দৃষ্টিভঙ্গি বদলে নতুন পথ চিনে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়।
নেলসন ম্যান্ডেলা তার দীর্ঘ ২৭ বছরের কারারুদ্ধ জীবনকে হতাশায় নষ্ট না করে জাতির স্বাধীনতার শক্তিতে রূপান্তর করেছিলেন। উদ্ভাবক থমাস আলভা এডিসন বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের আগে হাজার হাজার বার ব্যর্থ হয়েও দমে যাননি; বরং সেসব ব্যর্থতা থেকে তিনি শিখেছেন কোন কৌশলগুলো কার্যকর নয়। তাই কোনো বাধার মুখেই থমকে না দাঁড়িয়ে, বরং সেই দেয়াল ভাঙার মানসিকতা গড়ে তোলাই ঘুরে দাঁড়ানোর মূল চাবিকাঠি।
জীবনে স্থবিরতা কাটিয়ে সামনে এগোতে প্রথম প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। কোনো সংকট দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত মাথায় বাস্তবতাকে বিশ্লেষণ করতে হবে। বিপদের মধ্যেও আশার ছোট ছোট আলো খুঁজে পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। একই সাথে ব্যর্থতা সংক্রান্ত চেনা ধারণাতেও পরিবর্তন আনা জরুরি। ব্যর্থতা মানেই পথ শেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং এটা শেখায় যে আমাদের চেষ্টার কৌশলে কী খামতি ছিল। মূল পথ ধরে রেখে নতুন উদ্যমে চেষ্টা চালিয়ে গেলে সাফল্যের দেখা মেলে।
সঠিক পরিবেশ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এই যাত্রার আরেকটি বড় শর্ত। যে সমস্ত মানুষ প্রতিনিয়ত আপনার উদ্যোগকে খাটো করে কিংবা কেবল অন্ধকার দিকটা তুলে ধরে, তাদের জীবন থেকে ছাঁটাই করা উচিত। এর বদলে পাশে রাখতে হবে বাস্তববাদী ও উৎসাহদায়ক মানুষদের। পাশাপাশি নিজের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত বাহ্যিক বিষয় নিয়ে অহেতুক চিন্তিত না হয়ে, নিজের সিদ্ধান্ত, খাদ্যাভ্যাস, পরিশ্রমের পরিমাণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।
বড় কোনো লক্ষ্য বা সংকট সামনে এলে তা এক লাফে পার হওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য পুরো গন্তব্যকে ছোট ছোট খণ্ডে ভাগ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এতে প্রতিটি ছোট অর্জন আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে যেকোনো পথে নামার আগে বিকল্প পরিকল্পনা ও সঠিক প্রস্তুতি রাখাও সমান গুরুত্ব বহন করে। সেই সাথে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের পরিকল্পনায় নমনীয়তা এনে প্রতিনিয়ত নিজের অগ্রগতি ডায়েরিতে লিখে ট্র্যাক করা উচিত।
সবশেষে, জীবনের কঠিন পথগুলো একা অতিক্রম করার অহেতুক চেষ্টা না করে অভিজ্ঞ স্বজন বা বিশেষজ্ঞদের কাছে পরামর্শ চাওয়া প্রয়োজন। তা ছাড়া আলসেমি বা কাজ পিছিয়ে দেওয়ার বাজে অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। আর যখনই ধৈর্য হারাবে, চোখ বন্ধ করে কল্পনা করতে হবে লক্ষ্য পূরণের পর নিজের অর্জনের মুহূর্তটিকে। এই আত্মতৃপ্তির ইতিবাচক রূপকল্পই জীবনের প্রতিটি বাধার মুখোমুখি হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার অদম্য শক্তি জুগিয়ে যাবে।
সময়ের আলো/জেডি