পায়ে হেঁটে ২০ দিনে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় ফাহিম

এস কে দোয়েল, পঞ্চগড়

ফিচার

হাজার কিলোমিটার পথ, ২০টি সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয়। অঝোর বৃষ্টি আর তপ্ত রোদকে সঙ্গী করে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে

2026-07-30T23:20:11+00:00
2026-07-30T23:21:39+00:00
 
  শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
ফিচার
পায়ে হেঁটে ২০ দিনে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় ফাহিম
এস কে দোয়েল, পঞ্চগড়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:২০ পিএম  আপডেট: ৩০.০৭.২০২৬ ১১:২১ পিএম
তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে ফাহিম মুনতাসির। ছবি : সংগৃহীত
হাজার কিলোমিটার পথ, ২০টি সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয়। অঝোর বৃষ্টি আর তপ্ত রোদকে সঙ্গী করে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এক অদম্য যাত্রা। ‘কালো ধোঁয়া আর নয়, হেঁটেই করব দূরত্ব জয়’ এই সংকল্প বুকে নিয়ে টানা ২০ দিনে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত হেঁটে পৌঁছালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ ফাহিম মুনতাসির।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে যখন তিনি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে শেষ কদমটি রাখলেন, তখন তাঁর চোখেমুখে ছিল ক্লান্তির চেয়েও বড় এক সার্থকতা। এই দীর্ঘ পথে তিনি কেবল দূরত্ব জয় করেননি, বরং ছড়িয়ে দিয়েছেন পরিবেশ রক্ষা ও সুস্থ জীবনের অমূল্য এক বার্তা।

কে এই ফাহিম?
২৬ বছর বয়সী ফাহিম মুনতাসির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মফিজ মিয়া ও মাহমুদা আক্তার চৌধুরীর বড় সন্তান। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে বর্তমানে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত। তবে তাঁর পরিচয় কেবল শিক্ষকের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি সামাজিক সংগঠন ‘সোনালী সকাল’-এর সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

হাজার কিলোমিটারের ডায়েরি
গত ১০ জুলাই টেকনাফের শাপলা জিরো পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করেন ফাহিম। শুরুতে সঙ্গে দুজন সহযাত্রী থাকলেও ব্যক্তিগত কারণে তাঁরা ফেনীতে গিয়ে যাত্রা স্থগিত করেন। এরপর অদম্য ফাহিম একাই পাড়ি দেন বাকি পথ। যাত্রাপথে তিনি কেবল হেঁটেছেন তা নয়, বিভিন্ন স্থানে বীজ বপন ও বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশ সংরক্ষণের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। রাতের যাপন ছিল বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের বাড়িতে।

পথের চোখে পরিবেশের ক্ষত
ফোনিক প্রতিক্রিয়ায় ফাহিম জানান, এই দীর্ঘ যাত্রায় তাঁর চোখে ধরা পড়েছে প্রকৃতির নানা আর্তনাদ। বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী হত্যা, বিশেষ করে হাতির দাঁতের জন্য হাতি নিধন এবং লোকালয়ে সাপ পিটিয়ে মারার মতো ঘটনাগুলো তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তাঁর এই পদযাত্রা ছিল প্রকৃতির সেই কান্নার বিরুদ্ধে এক নিরব প্রতিবাদ।


রেকর্ড নয়, বার্তাটিই বড়
ফাহিম মুনতাসিরের কাছে এই পদযাত্রা কোনো গিনেস রেকর্ড বা নাম কামানোর বিষয় নয়। তিনি বলেন, এটি সুস্থ জীবন, হাঁটার অভ্যাস এবং পরিবেশ রক্ষার একটি ছোট্ট আহ্বান মাত্র। আমরা যত কম হাঁটছি, ততই অসুস্থতা বাড়ছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত যানবাহনের কালো ধোঁয়া বায়ুমণ্ডল বিষাক্ত করছে। আমি চাই মানুষ আমাকে নয়, আমার বার্তাটিকে মনে রাখুক।

তরুণদের প্রতি ডাক
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে ফাহিম বলেন, পরিবেশ রক্ষার কাজ কোনো বড় প্রকল্পের অপেক্ষা করে না। প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্ত যেমন, অল্প দূরত্বে রিকশা বা গাড়ি না নিয়ে হাঁটা, একটি করে গাছ লাগানো এবং পলিথিন বর্জন করার মাধ্যমেই বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

ফাহিম মুনতাসিরের এই ১০০০ কিলোমিটারের পদযাত্রা আজ কেবল একটি ভ্রমণ কাহিনী নয়; এটি আগামীর সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা প্রতিটি মানুষের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প। বাংলাবান্ধার সীমান্তে দাঁড়িয়ে ফাহিম আজ কেবল এক বিজয়ী পদযাত্রী নন, বরং প্রকৃতির এক অতন্দ্র প্রহরী।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া  টেকনাফ  তেঁতুলিয়া  পঞ্চগড় 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: