গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিভিন্ন কারখানা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের আতঙ্কের নাম ১৮টি মামলার পলাতক আসামি আকাশ ওরফে পিচ্চি আকাশ (২৭)। অবশেষে আকাশসহ তার সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের আরও পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০জুলাই) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গল থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত মূল হোতা পিচ্চি আকাশ সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থানার জয়পুর এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে। বর্তমানে সে কালিয়াকৈরের উলুসাড়া এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিল।
চক্রের বাকি গ্রেফতারকৃত সদস্যরা হলেন মো. নাদিম (২২), মো. সুমন হোসেন (২২), মো. লিমন হোসেন (২৪), মো. বাবু আলী (৩২) এবং মো. নাইবুল ইসলাম (৪৫)। শুক্রবার (৩১জুলাই) বিকেলে তাদের গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) যৌথ নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল ৩০ জুলাই রাত ৯টা ১৫ মিনিটে অভিযান পরিচালনা করে। জামালপুর জেলার জামালপুর সদর থানার কামালখান ইউনিয়নের তিতপল্লা এলাকার একটি ৩ তলা বাসা থেকে পিচ্চি আকাশকে গ্রেফতার করা হয়।
পিচ্চি আকাশ ও তার গ্যাংয়ের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেলযোগে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল। অস্ত্রের ভয়ে স্থানীয় জনগণ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ এতদিন তার বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস পায়নি।
গ্রেফতারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আকাশ জানায়, সে চাঁদাবাজি ও অপরাধের কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র কালিয়াকৈরের হরতকীতলা এলাকার গ্রামীণ ইন্ডাস্ট্রিজের উল্টো পাশে জঙ্গলে লুকিয়ে রেখেছে। পরে ৩১ জুলাই রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে তার দেখানো স্থান থেকে পলিথিনে মোড়ানো ৪টি বিভিন্ন আকারের লোহার হাসুয়া (ছেনি), ১টি লোহার চাপাতি, ১টি কাঠের গোল লাঠি এবং ১টি লোহার পাইপ উদ্ধার ও জব্দ করে পুলিশ।
অভিযানে গ্রেফতার হওয়া অপর ৫ সদস্য কালিয়াকৈরের জমিদারী হোটেলে সংঘটিত একটি ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আসামি আকাশের বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় নতুন করে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
সময়ের আলো/আতা