নওগাঁ পৌর পাইকারি সবজি বাজারের পাশে থাকা ভাঙাচোরা ডাস্টবিনটি পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছে। ডাস্টবিনে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ছে সড়কে। এতে ময়লা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন আশপাশের ব্যবসায়ীরাও। স্থানীয়দের দাবি, ডাস্টবিনটি অপসারণ করে নির্দিষ্ট সময়ে পৌরসভার ময়লা পরিবহনের গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা হোক।
শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড থেকে গোস্তহাটির মোড় পর্যন্ত সড়কটির দূরত্ব প্রায় ৩০০ মিটার। সড়কের দুই পাশে রয়েছে পাইকারি ও খুচরা সবজি বাজার, মসলা বাজার, ফলের আড়তসহ কয়েকটি বাজার। এসব এলাকার জন্য সড়কের পাশে রয়েছে একটি মাত্র ডাস্টবিন। সেটিও ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে।
প্রতিদিন সবজি বাজার ও আশপাশের দোকানের ময়লা-আবর্জনা ওই ডাস্টবিনে ফেলা হয়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ময়লা ছড়িয়ে পড়ে সড়কের ওপর। অনেক সময় রাস্তার মাঝখানেও ময়লা-আবর্জনা রাখা হয়। এতে ডাস্টবিনের সামনের পাকা সড়কের ইটের খোয়া উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্তে নোংরা পানির সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি ডাস্টবিনের ময়লা থেকে ছড়ায় দুর্গন্ধ। বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রবও। নোংরা পানির কারণে ওই পথ দিয়ে চলাচলের সময় পথচারীদের পোশাক নোংরা হয়ে যায়। গর্ত পার হতে গিয়ে অনেকেই পিছলে পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েন। দুর্গন্ধ এড়াতে অনেকে নাক-মুখে কাপড় চেপে ওই স্থান পার হন।
ময়লা-আবর্জনা সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা থাকলেও ডাস্টবিনটি সংস্কার বা অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লা পরিষ্কার করলেও তা বাজারের ব্যস্ত সময়ে হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়ে বলে অভিযোগ তাদের।
ভ্যানচালক আফসার আলী বলেন, প্রায়ই সবজি বাজারের ওই সড়ক দিয়ে তাকে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় ভ্যানে করে মালামাল পরিবহন করতে হয়। তখন ভাঙা অংশ দিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। সড়কের দক্ষিণ পাশ দিয়ে ভ্যান নিয়ে যেতে হয়। এতে যানজটে পড়তে হয় পথচারীদেরও।
পথচারী রামিম দেওয়ান বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে পৌরসভার ময়লা পরিবহনের গাড়ি বাজারে গেলে ব্যবসায়ীরা সেই গাড়িতে ময়লা দিতে পারবেন। বাজারের ওই জায়গায় স্থায়ীভাবে ডাস্টবিন রাখা উচিত নয়। প্রতিদিন নিয়মিত ময়লা অপসারণ করা প্রয়োজন। ডাস্টবিনের ময়লায় রাস্তা কাদাযুক্ত হয়ে যায়। চলাচলের সড়কে এভাবে ডাস্টবিন রাখায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মানুষেরও ক্ষতি হচ্ছে।
নওগাঁ বাজার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক বাদশা আলী বলেন, ডাস্টবিনটির বিষয়ে পৌরসভাকে অনেকবার জানানো হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এমন সময়ে এসে ডাস্টবিন পরিষ্কার করেন, যখন বাজারে বেচাকেনা শুরু হয়। এতে যানজটের সৃষ্টি হয়। অভিভাবকেরা শিশুদের নিয়ে স্কুলে যেতে সমস্যায় পড়েন। তারা ডাস্টবিনটি অপসারণ করে নির্দিষ্ট সময়ে ময়লা সংগ্রহের জন্য একটি গাড়ি রাখার দাবি জানান।
এ বিষয়ে নওগাঁ পৌরসভার যানবাহন ও বাজার পরিদর্শক নুরুল ইসলাম মন্টু বলেন, বাজারের ওই ডাস্টবিনটি অন্য কোথাও রাখার জায়গা নেই। পথচারীদের চলাচলের সুবিধার জন্য প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে এটি পরিষ্কার করা হয়।
সময়ের আলো/জোই