দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার ১০টি আদিবাসী পল্লিতে কারাম উৎসব উপলক্ষে সরকারি অনুদান দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো সরকারি সহায়তা পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে হাকিমপুর পৌরসভার গোহাড়া ও গোহাড়া আদিবাসীপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন আদিবাসী পল্লিতে কারাম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা, নাচ ও গানের মধ্য দিয়ে উৎসবটি পালন করেন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূর্বপুরুষের সময় থেকে প্রতিবছর ভাদ্র মাসের পূর্ণিমার একাদশীতে কারাম উৎসব পালন করে আসছেন তারা। উৎসব উপলক্ষে আদিবাসী তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দিনভর উপবাস থাকেন। সন্ধ্যায় পূজা-অর্চনা শেষে অন্ন গ্রহণের পর শুরু হয় মূল উৎসব।
কারাম উৎসবে তেল কারাম গাছের তিনটি ডাল একত্রিত করে পূজা করা হয়। নাচ-গান ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বিপদ থেকে মুক্তি, অনাবৃষ্টি, অতিবন্যা ও খরা থেকে রক্ষা এবং দেশ ও মানুষের মঙ্গল কামনা করেন উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষজন। উৎসব দেখতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও পল্লিগুলোতে জড়ো হন।
এদিকে, গোহাড়া ও গোহাড়া আদিবাসীপাড়ায় কারাম উৎসব পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। পরে তার পক্ষ থেকে উপজেলার ১০টি আদিবাসী পল্লিতে সরকারি অনুদান পৌঁছে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অনুদানের অর্থ তুলে দেন হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী সরদার, উপজেলা আদিবাসী সংগঠনের সাবেক চেয়ারম্যান বাদল টপ্প, আহ্বায়ক জুয়েল টপ্পো, হিলি প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম রব্বানী, বিএনপি নেতা সেলিম, শ্রমিক নেতা আজিজুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর লিটন মিয়াসহ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুদান পাওয়ার বিষয়ে এক আদিবাসী নেতা বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এবারই প্রথম কারাম উৎসব উপলক্ষে সরকারি অনুদান পাওয়া গেল। এর আগে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও নেতারা ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করলেও সরকারি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। অনুদানের পরিমাণ কম হলেও সরকারি সহায়তার এই উদ্যোগে তারা আনন্দিত। ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা পাওয়ার আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, কারাম উৎসবে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের শুভেচ্ছা ও অনুদান তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সবাইকে মিলেমিশে উৎসব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও অনুদান দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, দেশের মানুষের মধ্যে বৈষম্য না রাখার লক্ষ্যেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উৎসবকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই