গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের কেন্দুয়াব গ্রামের বিধবা এক নারীর জীবনে বর্ষা এখন শুধু বৃষ্টি নয়, ভয় আর অনিশ্চয়তার আরেক নাম। কয়েক মাস আগে স্বামী নাজিম উদ্দীনের মৃত্যু হয়েছে। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই টানা বর্ষণে ভেঙে গেছে পরিবারের একমাত্র মাটির ঘরের দেয়াল। এখন প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে সেই ভাঙা ঘরেই কোনোরকমে দিন কাটছে তাঁর।
পরিবারটির কোনো নিয়মিত আয়ের উৎস নেই। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব পুরোপুরি এসে পড়ে তাঁর স্ত্রীর ওপর। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে ভেঙে যাওয়া ঘর মেরামত করা তাঁর পক্ষে একেবারেই অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের পুরনো মাটির ঘরটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে দেয়ালের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে ঘরের বাকি অংশও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেকোনো সময় পুরো ঘরটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রতিবেশীরা।
বর্ষার প্রতিটি রাতে আতঙ্ক নিয়ে ঘুমাতে হয় মা ও মেয়েকে। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই তারা ভয়ে জেগে থাকেন। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে কখনো প্রতিবেশীর ঘরে, কখনো ভাঙা ঘরের এক কোণে রাত কাটাতে হয়।
টোক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কবিতা আক্তার বলেন, পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত মানবেতর। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে এনে প্রয়োজনীয় সহায়তার চেষ্টা করা হবে। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে পরিবারটি একটি নিরাপদ আশ্রয় পেতে পারে।
প্রতিবেশীরা জানান, নাজিম উদ্দীন জীবিত থাকতেই পরিবারটি অভাব-অনটনের মধ্যে ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর সেই সংকট আরও গভীর হয়েছে। এখন একটি নিরাপদ ঘরই পরিবারটির সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং মানবিক সংগঠনগুলো জরুরি ভিত্তিতে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াক। একটি ঘর মেরামত হলে বিধবা নারী ও তাঁর প্রতিবন্ধী মেয়েটি অন্তত নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।
সহযোগিতার আহ্বান
মানবিক কারণে কেউ পরিবারটির ঘর মেরামতে সহায়তা করতে চাইলে বিকাশ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন — বিকাশ (পার্সোনাল): ০১৯৩৯৭৩৭৮১৭
একটি ছোট সহায়তাও হয়তো এই অসহায় মা ও তাঁর প্রতিবন্ধী মেয়ের মাথার ওপর আবার একটি নিরাপদ ছাদ ফিরিয়ে দিতে পারে।
সময়ের আলো/আতা