কাজ শেষের আগেই পাউবোর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ধস

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

কুড়িগ্রামের হলোখানায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান ধরলা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের একটি কাজে ব্লক-পিচিংয়ের প্রায় ৫০ মিটার অংশে

2026-08-01T13:46:28+00:00
2026-08-01T13:46:28+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
কাজ শেষের আগেই পাউবোর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ধস
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৬ পিএম 
পাউবোর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে ধস। ছবি : সময়ের আলো
কুড়িগ্রামের হলোখানায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান ধরলা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের একটি কাজে ব্লক-পিচিংয়ের প্রায় ৫০ মিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় তীরবর্তী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ লোকালয় ভাঙন হুমকিতে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চলমান এই প্রকল্পে ধস ঠেকাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধসে যাওয়া অংশে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করেছে। 

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হলোখানা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ছাটকালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ধরলা নদীর বাম তীর সংরক্ষণের চলমান প্রতিরক্ষা কাজের ব্লক-পিচিং ও জিও ব্যাগসহ ডাম্পিং সামগ্রী ধসে যেতে শরু করেছে। এতে করে তীরবর্তী স্কুলসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতি ও আবাদি জমি ভাঙন হুমকিতে পড়েছে। চলমান বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে তীর ও নিকটবর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকায় স্থানীয়রা ভয়ে কিছু বলতে পারে না। তারা টাকার বিনিময়ে কিছু বখাটে ছেলেদের পাহারা রেখে যেনতেনভাবে কাজ করছে। ফলে তীর সংরক্ষণ কাজটি টেকসই হচ্ছে না।


পাউবো বলছে, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যায়ে তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পটির কাজ এখনও চলমান রয়েছে। ২০২৭ সালের জুনে কাজটি হস্তান্তর হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিরক্ষা কাজের সম্পন্ন করা একটি অংশে হঠাৎ ধস দেখা দিয়েছে। তীরের ওই স্থানে নদীর তলদেশের অংশে আকস্মিক গর্ত তৈরি হওয়ায় ডাম্পিং সামগ্রীসহ সারিবদ্ধ করে বসানো ব্লক ধসে নদী গর্ভে চলে গেছে। ধস ঠেকাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুম শেষে ধসে যাওয়া অংশটি মেরামত করে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পাউবো। 

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর ও আপেল বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভোর থেকে তীর সংরক্ষণ কাজের ব্লক ধসে যাওয়া শুরু করে। কাজের মান ভালো হলে শেষ করার আগে এভাবে ব্লক ধসে যেতো না। এভাবে সরকারের টাকার অপচয় হচ্ছে কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না। পাউবোর উচিত সঠিক তদারকি করা যাতে কাজটি টেকসই হয়।
ওই বাসিন্দারা আরও বলেন, তীরটি রক্ষা করা না গেলে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল, মসজিদ ও নিকটবর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকিতে পড়বে। অনেক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হবে। 

এ বিষয়ে পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, তীর সংরক্ষণ কাজটি এখনও চলমান। হঠাৎ ধস দেখা দিয়েছে। ধস ঠেকাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে তীরের নিচের অংশে ব্লক ও জিও ব্যাগ নতুন করে ডাম্পিং করে প্রতিরক্ষা কাজটি যথাযথভাবে সংস্কার করে নেওয়া হবে।

কাজ শেষের আগেই ধস প্রশ্নে এই নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, নদী গতিশীল। পানির প্রবাহের কারণে এর নিচে হঠাৎ করে ধারণার চেয়েও বেশি গর্ত তৈরি হতে পারে। ওই স্থানে হয়ত তেমনি আকস্মিক বড় গর্ত হয়েছে। ফলে ডাম্পিং সামগ্রীসহ পিচিং করা ব্লক দেবে গেছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।

সময়ের আলো/জোই 
  বিষয়:   পাউবো  তীর সংরক্ষণ  প্রকল্পে ধস  সময়ের আলো  নদী 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: