এনআইডি সংশোধন ফের মাঠ পর্যায়ে দিতে চায় ইসি

শাকিল আহমেদ

জাতীয়

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তিতে রয়েছেন ভোটাররা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছে জন্মতারিখ বা

2026-08-03T02:38:53+00:00
2026-08-03T02:38:53+00:00
 
  সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
এনআইডি সংশোধন ফের মাঠ পর্যায়ে দিতে চায় ইসি
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৮ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তিতে রয়েছেন ভোটাররা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছে জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধন নিয়ে। পাশাপাশি নাম, বাবা-মায়ের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সংশোধনের আবেদনও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এনআইডির চারটি (ক, খ, গ ও ঘ) ক্যাটাগরিতে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার সংশোধন আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে।

ইসির তথ্য বলছে, সবচেয়ে বেশি আবেদন আটকে আছে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে, যেখানে পেন্ডিং রয়েছে প্রায় ৭৭ হাজার আবেদন। এছাড়া ‘খ’ ক্যাটাগরিতে ২৫ হাজার, ‘ক’ ক্যাটাগরিতে ১৯ হাজার এবং ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ১৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে।

যেভাবে বেড়েছে জটিলতা : এনআইডি সংশোধনের কাজ সহজ করতে ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। পরে ২০২০ সালে প্রজ্ঞাপন জারি করে সংশোধনের আবেদন চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয় এবং কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা কোন ধরনের আবেদন নিষ্পত্তি করবেন, তা নির্ধারণ করা হয়।

এ ব্যবস্থায় ‘ক’ ক্যাটাগরির সাধারণ ভুল সংশোধনের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তাকে। ‘খ’ ক্যাটাগরির মধ্যম ধরনের ভুল ও আংশিক বয়স সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়া হয় জেলা বা সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে। ‘গ’ ক্যাটাগরির জটিল নাম ও বয়স সংশোধনের দায়িত্ব পান আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা। আর সবচেয়ে জটিল ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা দেওয়া হয় এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালককে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ‘ঘ’ ক্যাটাগরির অধিকাংশ আবেদনই বয়স বাড়ানো বা কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব আবেদন তুলনামূলক জটিল হওয়ায় ২০২৩ সালে এই ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা এককভাবে এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালকের হাতে ন্যস্ত করা হয়। তবে এ সিদ্ধান্তের পর ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ ভোটারদের। কারণ, সামান্য বয়স সংশোধনের জন্যও উপজেলা বা জেলা পর্যায় থেকে আবেদনকারীদের ঢাকার আগারগাঁওয়ে এনআইডি কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে।

ডিজির কক্ষের সামনে ভিড় : রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সপ্তম তলায় গিয়ে দেখা যায়, এনআইডি মহাপরিচালকের কক্ষের সামনে ভিড় করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা। কেউ বয়স সংশোধনের জন্য, কেউ নাম বা বাবা-মায়ের নামের বানান সংশোধনের জন্য অপেক্ষা করছেন।

এসব ভুলের কারণে অনেকের পাসপোর্ট তৈরি, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, চাকরির পেনশন কিংবা বিদেশে চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে আছে। মহাপরিচালক বিদেশ সফরে থাকায় অনেকেই সেদিন সেবা না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

বরিশালের গৌরনদীর ভোটার মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমার সার্টিফিকেট, এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের মধ্যে বয়সে গরমিল রয়েছে। এনআইডিতে বয়স দুই বছর বেশি। সংশোধনের জন্য আবেদন করলেও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, বয়স সংশোধনের ক্ষমতা তাদের নেই। তাই ঢাকায় এসেছি। কিন্তু এসে শুনি মহাপরিচালক দেশের বাইরে। এখন আবার আসতে হবে। বারবার ঢাকায় আসা আমাদের জন্য চরম ভোগান্তির।’

পঞ্চগড়ের এক ভোটার বলেন, ‘এক বছর বয়স কমানোর জন্য আবেদন করেছি। উপজেলা ও জেলা অফিসে গিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। সব কাগজপত্র থাকার পরও অনেক দিন ধরে ঘুরছি। দেশের শেষ প্রান্ত থেকে ঢাকায় এসে সংশোধন করাটা খুবই হয়রানির।’

মাঠ পর্যায়ে ফিরছে বয়স সংশোধনের ক্ষমতা : তবে ভোটারদের জন্য স্বস্তির খবরও রয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধনের ক্ষমতা আবারও মাঠ পর্যায়ে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি কমিশনের ১২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এসএসসি, জেএসসি বা পিইসি সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন আগের মতো উপজেলা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারাই নিষ্পত্তি করবেন। বিভাগীয় শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় এ দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া ভোটার এলাকা পরিবর্তন বা এনআইডি স্থানান্তরের আবেদনও অনলাইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ দেওয়া হবে। ফলে এ সেবা নিতে নাগরিকদের আর সরাসরি কার্যালয়ে যেতে হবে না।

ইসির বক্তব্য : জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘চার ক্যাটাগরিতে সারা দেশে ১ লাখ ৩৮ হাজার আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। এগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কাজ চলছে।’

বয়স সংশোধনের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, কাগজপত্র ঠিক থাকলে কেউ হয়রানির শিকার হওয়ার কথা নয়। আবেদন অনলাইনে করা হয়, নিষ্পত্তিও অনলাইনে করা হয়। সব তথ্য সঠিক থাকলে ঢাকায় আসার প্রয়োজন নেই।


তিনি আরও জানান, সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়েছে এসএসসি সনদ যাচাইয়ের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ে কিছু বয়স সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা যাবে। তবে এ বিষয়ে এখন কোনো পরিপত্র জারি হয়নি।

আবেদন নিষ্পত্তিতে চার সদস্যের কমিটি : এদিকে এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি সহজ করতে রোববার চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। এনআইডি অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক হাবিবা আখতার এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছেন।

এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালককে (নিবন্ধন ও প্রবাসী) আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটি আবেদনগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত প্রমাণপত্র যাচাই করবে।

কমিটি বিভিন্ন ধরনের সংশোধনের শ্রেণিকরণ, প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের তালিকা, ‘ঘ’ ক্যাটাগরির বাতিল হওয়া ও পুনরায় দাখিল করা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উপায়, সিএমএস পোর্টালে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, এনআইডি আনলক ও রোলব্যাকের যৌক্তিকতা বিষয়ে সুপারিশ করবে।

দেশে ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ : বর্তমানে দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   এনআইডি  সংশোধন  ইসি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: