ব্যস্ত জীবনযাত্রা, কর্মক্ষেত্রের প্রতিযোগিতা, পারিবারিক দায়িত্ব আর ভবিষ্যতের চিন্তা- সব মিলিয়ে আধুনিক জীবনে ‘স্ট্রেস’ বা মানসিক চাপ আমাদের নিত্যসঙ্গী। অল্পবিস্তর স্ট্রেস কাজের গতি বাড়ালেও তা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে শরীর ও মন দুটোরই মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা কমানোর কথা শুনলেই অনেকে ওষুধের কথা ভাবেন। কিন্তু ওষুধ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে স্ট্রেস মুক্ত থাকার কিছু উপায়-
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম : যখনই আপনার মনে হবে স্ট্রেস আপনাকে চেপে ধরছে, সব কাজ থামিয়ে কয়েকবার দীর্ঘ শ্বাস নিন। একে বলা হয় ‘ডিপ ব্রিথিং’। চার সেকেন্ড ধরে নাক দিয়ে শ্বাস নিন, চার সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং তারপর ছয় সেকেন্ড ধরে মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে শ্বাস ছেড়ে দিন। এটি শরীরের ‘প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম’কে সক্রিয় করে তোলে, যা নিমেষেই হার্ট রেট কমিয়ে মনকে শান্ত করে।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও যোগব্যায়াম : শারীরিক ব্যায়াম কেবল শরীরের জন্য নয়, মনের জন্যও দারুণ উপকারী। প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটলে, দৌড়ালে বা যোগব্যায়াম করলে শরীর থেকে ‘এন্ডোরফিন’ নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। একে বলা হয় ‘ফিল-গুড’ হরমোন, যা প্রাকৃতিকভাবেই মনকে প্রফুল্ল করে এবং মানসিক চাপ দূর করে।
প্রকৃতির সান্নিধ্য ও ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ : সারা দিন ল্যাপটপ, স্মার্টফোন আর সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকা স্ট্রেস বৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ। প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টার জন্য প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকুন, যাকে বলা হয় ‘ডিজিটাল ডিটক্স’। এই সময়টায় ঘরের বাইরে যান, সবুজ ঘাসে হাঁটুন বা গাছের পরিচর্যা করুন।
সুষম খাদ্যাভ্যাস ও ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ : আমরা কী খাচ্ছি, তার ওপর আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ভর করে। অতিরিক্ত চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংকসে থাকা ক্যাফেইন সাময়িক চনমনে ভাব আনলেও মূলত শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই ক্যাফেইনের পরিমাণ কমিয়ে গ্রিন টি বা পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস করুন।
পর্যাপ্ত এবং মানসম্মত ঘুম : স্ট্রেস এবং ঘুম একে অন্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঘুম কম হলে মেজাজ খিটখিটে হয় এবং স্ট্রেস বাড়ে। আবার স্ট্রেস বেশি থাকলে ঘুম আসতে চায় না। এই চক্র ভাঙতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
নিজের জন্য সময় ও শখের কাজ : সারা দিনের ব্যস্ততার মাঝে অন্তত ১৫-২০ মিনিট সময় রাখুন শুধু নিজের জন্য। এই সময়ে ডায়েরি লিখতে পারেন, বই পড়তে পারেন, গান শুনতে পারেন কিংবা আপনার পছন্দের কোনো শখের কাজ (যেমন : রান্না, ছবি আঁকা) করতে পারেন।
স্ট্রেস পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়, তবে তা নিয়ন্ত্রণ করা অবশ্যই সম্ভব। সবকিছু নিখুঁত করতে হবে- এই মানসিকতা পরিহার করুন। প্রয়োজনে কাছের কোনো বন্ধু বা পরিবারের মানুষের সঙ্গে মন খুলে কথা বলুন।
সময়ের আলো/এসএকে