আমার বয়স মাত্র ২০ বছর। কোলে ১০ মাসের একটি কন্যা সন্তান। আমার মেয়েটা বাবাকে আর কোনোদিন ডাকতে পারবে না। আমি স্বামী হারিয়েছি, আর আমার সন্তান হারিয়েছে তার বাবাকে। আমি শুধু আমার স্বামীর হত্যার সঠিক বিচার চাই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের নিহত সঞ্জীব সরকারের স্ত্রী।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও দীর্ঘ সময় পরও এখনো সবাই গ্রেফতার হয়নি। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
নিহতের স্ত্রী বলেন, আমার ছোট্ট সন্তান বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমি একজন স্বামীহারা নারী। আমি চাই, যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ কারণে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমি শুধু বিচার চাই। যেন আর কোনো স্ত্রীকে এভাবে স্বামী হারাতে না হয়, আর কোনো সন্তানকে বাবাহারা হয়ে বড় হতে না হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত সঞ্জীব সরকারের মা কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের গোপাল সরকারের স্ত্রী বৃদ্ধা মায়া রানী সরকার তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বলেন, আমার পুত্র সঞ্জীব সরকার (৩০) জীবন জীবিকার তাগিদে তার বাবার ঘের দেখাশুনা করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় গত ৩০ জুন মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় সে ঘেরের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে যাওয়ার পরও আর ফিরে না আসায় তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। পরের দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘেরের পাশেই সঞ্জীবের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
মায়া রানী সরকার বলেন, আমার স্বামীর সেজ ভাই নেপাল সরকার ও তার ছেলে তাপস সরকার ওরফে ডালিমের সঙ্গে আমার স্বামীর ও ছেলের দীর্ঘদিন যাবৎ মনোমালিন্য চলে আসছিল। আমার স্বামী ও ছেলের প্রত্যেক কাজে তারা হিংসা করতো। এরই জের হিসেবে গত ৩০ জুন আমার ছেলে ঘেরে গেলে তাপস/ডালিম সরকারের সহযোগিতায় কালিগঞ্জের ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের মৃত গঙ্গাধার সরকারের ছেলে আনন্দ সরকার, আনন্দ সরকারের ছেলে শাওন সরকার, নেপাল চন্দ্র সরকারের ছেলে তাপস সরকার ওরফে ডালিম ও মৃত অনন্ত সরকারের ছেলে নেপাল চন্দ্র সরকার মিলে আমার ছেলেকে ঘের থেকে দূরে নিয়ে তারা দুই চোখে ছুরি দিয়ে খোঁচা মারে ও লোহার রড দিয়ে বুকে ও পিঠে আঘাত করে এবং মাথায় এমন জোরে আঘাত করে যার ফলে তার কান দিয়ে ঘিলু বের হয়ে যায়। একপর্যায় তারা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে যে রাতে মার্ডার হয়েছিল তার পর থেকে আনন্দ তার ছেলে শাওন সরকার ও তাপস সরকার বাড়ি ছাড়া। ইতোমধ্যে নেপাল সরকার গ্রেফতার হলে বাকী আসামিরা এখনো গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ কোনোভাবেই তাদের গ্রেফতার করছে না। হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামিরা মোবাইলে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়েছে। ফলে নিহত ছেলের শিশু সন্তান ও তার বিধবা স্ত্রীকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।
এব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সময়ের আলো/জোই