জিপিএস ট্র্যাকার কি সত্যিই শৃঙ্খলা আনতে পারবে গণপরিবহনে?

সময়ের আলো ডেস্ক

প্রযুক্তি

ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা, বেপরোয়া গতিতে বাস চালানো, রাস্তায় রেষারেষি ও নিরাপত্তাহীনতা- বাংলাদেশের গণপরিবহনে এসব সমস্যা বহুদিনের। এই

2026-08-04T09:27:45+00:00
2026-08-04T09:36:37+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
প্রযুক্তি
জিপিএস ট্র্যাকার কি সত্যিই শৃঙ্খলা আনতে পারবে গণপরিবহনে?
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৭ এএম  আপডেট: ০৪.০৮.২০২৬ ৯:৩৬ এএম
রাজধানীর পথে বাসের বহর। ছবি : সংগৃহীত
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য অপেক্ষা, বেপরোয়া গতিতে বাস চালানো, রাস্তায় রেষারেষি ও নিরাপত্তাহীনতা- বাংলাদেশের গণপরিবহনে এসব সমস্যা বহুদিনের। এই পরিস্থিতি বদলাতে ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে বিআরটিএ। প্রশ্ন হচ্ছে, ছোট্ট একটি ডিভাইস কি সত্যিই গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে পারবে? 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সব গণপরিবহনে বিটিআরসির নিবন্ধিত ৪১টি প্রতিষ্ঠানের যেকোনও একটি থেকে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন করতে হবে। সার্ভিস প্রোভাইডারদের তথ্য অনুযায়ী, একটি ডিভাইস বসাতে খরচ হবে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। এছাড়া, মাসিক সার্ভিস চার্জ ৩৩৩ টাকা। এক বছরের সার্ভিস ফি একসঙ্গে পরিশোধ করতে হবে।

তবে, নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরও বাস্তব চিত্র পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক নয়। অনেক চালক ও সহকারী এখনো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে অনেক মালিকও অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর প্রভাব ফিটনেস পরীক্ষাতেও দেখা গেছে। মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে যেখানে আগে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি বাস ফিটনেস পরীক্ষার জন্য আসত, সেখানে নতুন নিয়ম চালুর পর একদিনে এসেছে মাত্র ২টি বাস।

জিপিএস ট্র্যাকার কীভাবে কাজ করে?

জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম হলো স্যাটেলাইটভিত্তিক একটি প্রযুক্তি। গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকার বসানো থাকলে এটি সার্বক্ষণিক গাড়ির অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে এবং সেই তথ্য সার্ভারে পাঠায়। এর মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাওয়া যায়।

লাইভ ট্র্যাকিং
মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে যেকোনও সময় দেখা যায় গাড়িটি কোথায় আছে, কোন পথে চলছে এবং কত গতিতে চলছে।

ওভারস্পিড অ্যালার্ট
নির্দিষ্ট গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া যায়। চালক সেই সীমা অতিক্রম করলেই সঙ্গে সঙ্গে ইমেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়।

ইঞ্জিন লক ও আনলক
মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকেই গাড়ির ইঞ্জিন লক করা যায়। ফলে, অনুমতি ছাড়া কেউ গাড়ি চালু করতে পারে না।

জিওফেন্সিং
নির্ধারিত রুট বা নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে গাড়ি চলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নোটিফিকেশন পাওয়া যায়।

ট্রিপ ও দূরত্বের হিসাব
একটি গাড়ি দিনে কত কিলোমিটার চলেছে, কোথায় কোথায় থেমেছে এবং কতগুলো ট্রিপ দিয়েছে- সব তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে।

ফুয়েল রিপোর্ট ও পাওয়ার ফেইল অ্যালার্ট
জ্বালানির ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা যায়। আবার কেউ ট্র্যাকারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে বা ব্যাটারি খুলে ফেললেও তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা চলে আসে।


গণপরিবহনে কী পরিবর্তন আনতে পারে?

গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো পুরো রুট ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বাসের গতি নিয়মিত নজরদারিতে থাকায় অতিরিক্ত গতিতে চালানো কিংবা যাত্রী তুলতে রাস্তায় রেষারেষির প্রবণতা কমতে পারে।

অনেক সময় চালকেরা জ্যাম এড়াতে বা অতিরিক্ত ট্রিপ দেওয়ার জন্য নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করেন। জিওফেন্সিং এবং লাইভ ট্র্যাকিং চালু থাকলে এমন ঘটনা সহজেই শনাক্ত করা যাবে। ফলে, নির্ধারিত রুট মেনে বাস চলাচল নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।

যাত্রীদের জন্যও এর সুফল রয়েছে। বাসের অবস্থান জানা থাকলে স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে পরবর্তী বাস কত দূরে আছে, তা জানা সম্ভব হবে। বিশেষ করে রাতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এটি নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

এছাড়া, বিআরটিএ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সিস্টেম থেকে শহরের বিভিন্ন বাসের চলাচল একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হবে। এতে চালকদের জবাবদিহিতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

জিপিএস ট্র্যাকার বসানোর বিষয়টি অনেক পরিবহন মালিকের কাছে অতিরিক্ত ব্যয় মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি আধুনিক, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান লাখ লাখ যানবাহনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর কার্যকর বাস্তবায়ন। নিয়মটি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে ভবিষ্যতে যাত্রীদের জন্য গণপরিবহন আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   জিপিএস ট্র্যাকার  বাস  গাড়ি  রেষারেষি  গণপরিবহন  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
প্রযুক্তি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: